উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতাকেন্দ্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে ইসলামাবাদ গোপন পর্যায়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের ভূমিকা আরও জোরালো হতে পারে।
২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত গণঅভ্যুত্থানে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া কার্যত পূর্ব ও পশ্চিম—এই দুই প্রশাসনিক ও সামরিক বলয়ে বিভক্ত হয়ে রয়েছে। প্রায় দেড় দশকের এই সংকট নিরসনে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে জানা গেছে, লিবিয়ার দুই পক্ষের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান এই মধ্যস্থতার দায়িত্ব নেয়। আলোচনায় একটি ৩৬ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষমতা ভাগাভাগির কাঠামো নিয়ে আলোচনা চলছে।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতিসংঘ-সমর্থিত পশ্চিমাঞ্চলীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দ্বিবাহ তার দায়িত্বে বহাল থাকবেন। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলভিত্তিক লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির ডেপুটি কমান্ডার সাদ্দাম হাফতারকে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান করার প্রস্তাব রয়েছে।
এছাড়া দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র ও অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণে থাকা লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির প্রধান খলিফা হাফতারের জন্যও বাজেট-সংক্রান্ত বিশেষ ক্ষমতার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, এই প্রক্রিয়া কার্যকর রাখতে পাকিস্তান সমন্বয়কারীর ভূমিকায় থাকবে। তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পুরো পরিকল্পনাটি এখনো প্রাথমিক আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
গত মাসে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির রাওয়ালপিন্ডিতে সাদ্দাম হাফতারের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে হাফতার ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র লিবিয়ার জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, মিশর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রভাবশালী দেশের তুলনায় পাকিস্তান অপেক্ষাকৃত কম প্রভাবশালী হলেও দেশটির সঙ্গে লিবিয়ার উভয় পক্ষেরই কার্যকর যোগাযোগ রয়েছে। এ কারণেই ইসলামাবাদের মধ্যস্থতার উদ্যোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে পশ্চিমাঞ্চলীয় সরকারের সংলাপের আগ্রহ এবং পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনা সফল হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে—এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া যায় না। অতীতের বিভিন্ন শান্তি চুক্তির অভিজ্ঞতা সামনে রেখে তারা বাস্তবসম্মত অগ্রগতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান, লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট পক্ষ কিংবা আলোচনায় সম্ভাব্য সম্পৃক্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।