‘জিয়াউর রহমানকে রাজনৈতিক নেতৃত্বে আনার নেপথ্যের মানুষ ছিলেন যাদু মিয়া’—তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক:
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্থানের পেছনে মরহুম মশিয়ূর রহমান (যাদু মিয়া)-এর অবদান ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন। তিনি বলেন, একজন সামরিক কর্মকর্তাকে জাতীয় রাজনীতির নেতৃত্বে নিয়ে আসার জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছিলেন যাদু মিয়া।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি জাতীয় কমিটি আয়োজিত তার ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও কৌশলগত চিন্তার কারণেই যাদু মিয়া জিয়াউর রহমানকে রাজনীতিতে আসার জন্য উৎসাহিত করেছিলেন। সেই সিদ্ধান্তই পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে এবং দলটি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশে এক ধরনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নেতৃত্বের সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি দিকনির্দেশনা খুঁজছিল। এমন পরিস্থিতিতে যাদু মিয়া ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনা ও রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে সুদূরপ্রসারী চিন্তা করেছিলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, তৎকালীন সময়ে অনেক রাজনৈতিক নেতা বিদ্যমান শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করলেও ভবিষ্যতের রাজনৈতিক রূপরেখা নির্ধারণে যাদু মিয়ার মতো স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি খুব কম নেতার মধ্যেই দেখা গিয়েছিল। তার সেই রাজনৈতিক প্রজ্ঞার ফলেই জিয়াউর রহমানকে রাজনীতির মূলধারায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

জহির উদ্দীন স্বপন বলেন, জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, বিএনপির প্রতিষ্ঠা এবং পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দলের বিকাশ—সবকিছুর সূচনালগ্নে যাদু মিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তার অবদান তাই বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ছড়াকার আবু সালেহ, শিক্ষাবিদ ড. মাববুব উল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, শামসুজ্জামান দুদু, ভাষানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক গাজীউল হাসান খানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব।