রোনালদোর জোড়া গোলে উজবেকিস্তান বিধ্বস্ত

স্পোর্টস ডেস্ক: বয়স শুধু একটি সংখ্যা—এই কথারই যেন জীবন্ত প্রমাণ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সেও মাঠে নেমে নিজের দুর্দান্ত ফিটনেস, ক্ষুধা আর গোল করার ক্ষমতা দিয়ে বিশ্বকে মুগ্ধ করে চলেছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। বিশ্বকাপের মঞ্চে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নতুন একাধিক রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি দলকে বড় জয়ও উপহার দিয়েছেন তিনি।

রোনালদোর অনবদ্য পারফরম্যান্সে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে পর্তুগাল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছে ইউরোপিয়ান দলটি।

এই ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে বিরল এক কীর্তি গড়েছেন রোনালদো। তিনি প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে পর্তুগালের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও শীর্ষে উঠে এসেছেন তিনি। কিংবদন্তি ইউসেবিওর ৯ গোলের রেকর্ড ভেঙে এখন রোনালদোর ঝুলিতে বিশ্বকাপে ১০ গোল।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে পর্তুগাল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় মিনিটে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও রোনালদো। তবে বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলোর নিখুঁত পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন রোনালদো।

১৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে পর্তুগাল। ফ্রি-কিক থেকে চমৎকার কৌশলে উজবেক রক্ষণভাগকে বিভ্রান্ত করে গোল করেন নুনো মেন্ডেস।

প্রথমার্ধে একবার জালে বল পাঠিয়েছিল উজবেকিস্তান। তবে ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। এরপর বিরতির ঠিক আগে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে পর্তুগালের লিড ৩-০ করেন রোনালদো। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করেন তিনি।

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল পর্তুগালের হাতেই। কর্নার থেকে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করেন উজবেক গোলরক্ষক আব্দুভোহিদ নেমাতোভ। ফলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০।

৭২ মিনিটে রোনালদোর সামনে হ্যাটট্রিক পূরণের সুবর্ণ সুযোগ এলেও উজবেক গোলরক্ষকের দুর্দান্ত সেভে তা ভেস্তে যায়। শেষদিকে ৮৭ মিনিটে রাফায়েল লিয়াও গোল করলে ব্যবধান পৌঁছে যায় ৫-০ তে।

যোগ করা সময়েও রোনালদোর সামনে আরেকটি সুযোগ এসেছিল। তবে হ্যাটট্রিক না পেলেও জোড়া গোল, নতুন রেকর্ড এবং বড় জয়—সব মিলিয়ে স্মরণীয় এক রাতই কাটালেন পর্তুগিজ অধিনায়ক।

এই জয়ে নকআউট পর্বের পথে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করল পর্তুগাল। আর রোনালদো প্রমাণ করলেন, বয়স বাড়লেও তাঁর গোলের ক্ষুধা এবং ইতিহাস গড়ার ক্ষমতা এখনো অটুট।