জুলাইয়ের ইতিহাস যেন হারিয়ে না যায়: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালের ইতিহাস নিয়ে যেমন বিতর্ক হয়েছে, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ইতিহাসও যেন বিকৃত বা হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘আজাদী সংগ্রামের পটভূমিতে জুলাই বিপ্লব ২০২৪’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ১৯৭১ সালের সব শহীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি হয়নি। একই ভুল যেন ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে না হয়। শহীদ, আহত ও অংশগ্রহণকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ভুল তালিকা সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। জামায়াত আমির বলেন, ইতিহাস শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, নতুন প্রজন্মের কাছে তা সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে। জুলাই আন্দোলনের সময় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত কঠিন, তখন আশ্রয় দেয়ার মতো কেউ ছিল না। সেই আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক রাজনৈতিক দল দাবি করতে পারে না। অথচ এখন অনেকেই নিজেদের জুলাই আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস বিকৃত বা ভুলিয়ে দেওয়ার কোনো চেষ্টা হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার কোনো উল্টো সংগ্রাম যদি শুরু হয়ে থাকে, তাহলে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলছি দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আমরা তা প্রতিহত করব। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইতিহাস সংরক্ষণ শুধু বেসরকারি উদ্যোগের বিষয় নয়, এটি সরকারেরও দায়িত্ব। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্যে পরিবর্তন এসেছে এবং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির পর সেই পরিবর্তন আরো স্পষ্ট হয়েছে। গণতন্ত্র প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের রায়ই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সর্বোচ্চ। সেই রায়ের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই এবং জনগণের অধিকার ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা উচিত নয়। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, মেহেরবানি করে জুলাই যোদ্ধাদের গায়ে হাত দেবেন না। যাদের আত্মত্যাগের কারণে আজকের পরিবর্তন এসেছে, তাদের রক্ত যেন আর না ঝরে।