সারা বাংলাদেশ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ১ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)। পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবরজুড়ে আবহাওয়ায় থাকবে নানা পরিবর্তন। মাসের শুরুতে ভ্যাপসা গরম ও বিচ্ছিন্ন বৃষ্টি থাকলেও মধ্য অক্টোবরের মধ্যে দেশ থেকে বিদায় নিতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু। এরপর মাসের শেষদিকে সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে এবং সমুদ্র উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিডব্লিউওটি এ পূর্বাভাস প্রকাশ করে।
মাসের প্রথম ১০ দিনে দেশের অধিকাংশ এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। চট্টগ্রাম, বরিশাল, ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে খণ্ডকালীন ও স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।
বৃষ্টির বেশির ভাগই দুপুর থেকে রাত ১২টার মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে প্রথম দুই দিন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ ও স্থায়িত্ব বেশি হতে পারে।
এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা রোদ থাকতে পারে। বৃষ্টিহীন সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তীব্র ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। রাজশাহী ও রংপুরে স্বাভাবিক খরা পরিস্থিতি এবং রাজশাহী ও সিলেটের কিছু এলাকায় মৃদু তাপপ্রবাহের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।
মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের নদী অববাহিকায় ভোরের দিকে স্বাভাবিক কুয়াশা দেখা যেতে পারে। পাশাপাশি বৃষ্টির সময় বজ্রপাতের আশঙ্কা থাকায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় ১০ দিনে দেশের আবহাওয়া তুলনামূলক পরিষ্কার ও স্বাভাবিক থাকতে পারে। খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে কিছুটা মেঘের আধিক্য থাকলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকবে।
বিডব্লিউওটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবরের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি বিদায় নিতে পারে। এরপর টানা বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকবে।
তবে ১৯ ও ২০ অক্টোবরের দিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা বাড়তে পারে। এ সময়ে দিনে গড়ে ৬ থেকে ৯ ঘণ্টা রোদ থাকতে পারে। পাশাপাশি ১৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি দুর্বল লঘুচাপ তৈরির সামান্য সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে ১৭ অক্টোবরের পর গভীর সমুদ্র কিছুটা উত্তাল হতে পারে।
মাসের শেষ ১০ দিনে আবহাওয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে ২১ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ এবং তুলনামূলক বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সময়ে একটি বৃষ্টি বলয় সক্রিয় হতে পারে। ফলে রোদের পরিমাণ কমে দিনে প্রায় ৪ থেকে ৮ ঘণ্টায় নেমে আসতে পারে। গভীর সমুদ্রও এ সময় উত্তাল থাকতে পারে। পাহাড়ি এলাকায় সামান্য পাহাড়ধসের আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে বিডব্লিউওটি।
তবে ২৫ অক্টোবরের পর থেকে দেশের আকাশ আবার পরিষ্কার হতে পারে এবং বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসতে পারে। মাসের শেষভাগে ভ্যাপসা গরম বা তাপপ্রবাহের বড় কোনো প্রভাব না থাকলেও রংপুর ও রাজশাহীতে স্বাভাবিক খরা পরিস্থিতি থাকতে পারে।
এ ছাড়া মাসজুড়েই দেশের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের নদী অববাহিকায় ভোরের কুয়াশা দেখা যেতে পারে।