রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত সেফটি ভালভের সমস্যা সমাধানের পর ১৬ মেগাপাসকেল উচ্চচাপে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিআরওভি) পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে পরীক্ষাটি সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্টদের মতে, পিআরওভি পরীক্ষার সফলতা প্রথম ইউনিটের কমিশনিং প্রক্রিয়াকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত থেকে শুরু হওয়া পরীক্ষা বুধবার রাত পর্যন্ত চলে। প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ—দুই জায়গা থেকেই পরীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়।
পরীক্ষার সময় প্রথমে কন্ট্রোল ভালভগুলোর কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। এগুলোর কার্যক্রম সন্তোষজনক পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মেইন সেফটি ভালভের কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়াও পরীক্ষা করা হয়।
এ সময় ভালভের—
খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম;
প্রতিক্রিয়া;
অ্যালার্ম ব্যবস্থা;
বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত পরামিতি
পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ড. জায়েদুল হাসান জানান, অনুমোদিত পদ্ধতি এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করেই পরীক্ষা পরিচালনা করা হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগে ও চলাকালে যোগাযোগব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা এবং বিকিরণ নিরাপত্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব নিরাপত্তাব্যবস্থাও যাচাই করা হয়।
তিনি বলেন, পিআরওভি পরীক্ষার সফলতা কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কারণ, রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি সিস্টেমে নিরাপদ চাপ বজায় রাখার সঙ্গে এই ব্যবস্থা সরাসরি যুক্ত।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, কমিশনিংয়ের পুরো প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি পরীক্ষা প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, অনুমোদন, ব্রিফিং এবং নিরাপত্তা শর্ত নিশ্চিত করার পরই পরিচালনা করা হচ্ছে।
নির্ধারিত সময়সূচি ঠিক রাখতে গিয়ে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো আপস করা হবে না বলেও তিনি জানান।
পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ মেগাপাসকেল চাপে আরও একটি পরীক্ষা শিগগিরই হওয়ার কথা রয়েছে। কমিশনিং দল ধাপে ধাপে এগিয়ে প্রতিটি পর্যায় সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।
এর আগে সেফটি ভালভের ত্রুটির কারণে রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর সময় পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
রুশ পরমাণু প্রকৌশল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেএসসি এএসই ইউনিট-১ চালুর জন্য ইউনিট-২ থেকে একটি পাইলট- গত ২২ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল রূপপুরে আসে। বাংলাদেশি ও রুশ বিশেষজ্ঞদের যৌথ প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্তঅপারেটেড রিলিফ ভালভ ইউনিট-১-এ স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন।
সমস্যা সমাধানে গত ২২ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল রূপপুরে আসে। বাংলাদেশি ও রুশ বিশেষজ্ঞদের যৌথ প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত ভালভের সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছেন ড. জায়েদুল হাসান।
এদিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম ১ অক্টোবর দুপুর নাগাদ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানিয়েছে, দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। প্রকল্পের সময়সূচি অনুযায়ী, একাধিক ফ্লাইটে এসব জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হবে এবং ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ সরবরাহ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
এনপিসিবিএলের এক কর্মকর্তা জানান, প্রথম চালান বৃহস্পতিবার রাতে পৌঁছানোর পর বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে সড়কপথে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে ঈশ্বরদীর রূপপুর প্রকল্প এলাকায় নেওয়ার কথা রয়েছে।