দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার আমবাড়ী এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সাপের বিষ উদ্ধারের দাবি করেছে বিজিবি ও র্যাব। অভিযানে চারজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিষসহ জব্দ করা মালামালের মোট মূল্য প্রায় ৩৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
শুক্রবার সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান।
আটক ব্যক্তিরা হলেন চিরিরবন্দর উপজেলার দামুর গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর সদর উপজেলার ছোট গুড়গোলা গ্রামের মো. সালাউদ্দিন সান্জু, ফুলবাড়ী উপজেলার তে দেখী গ্রামের মো. আনিছুর রহমান এবং বিরামপুর উপজেলার কৃন্দনহাট গ্রামের উজ্জল আলী।
বিজিবি জানায়, ১৩ আগস্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪২ বিজিবি, র্যাব-১৩-এর দিনাজপুর ক্যাম্প ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল আমবাড়ী এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেই চারজনকে আটক করা হয়।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে তিনটি কাচের জারে থাকা আনুমানিক ৫ কেজি ৭০০ গ্রাম সাপের বিষ উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি একটি প্রাইভেটকার, দুটি মোটরসাইকেল, চারটি মোবাইল ফোন ও ছয়টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে বিজিবি বলছে, আটক ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িত। এর আগে বিভিন্ন সময়ে তারা পার্শ্ববর্তী দেশে সাপের বিষ পাচার করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিষও দেশের বাইরে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অভিযানের পর আটক ব্যক্তিদের উদ্ধার করা মালামালসহ চিরিরবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে গত ১৯ আগস্ট হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে উদ্ধার করা নমুনার রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় নমুনাটি সাপের বিষ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিজিবি অধিনায়ক জানান, সীমান্তপথে সাপের বিষসহ বন্যপ্রাণীজাত পণ্য এবং অন্যান্য অবৈধ সামগ্রীর পাচার বন্ধে তাদের নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আরও অভিযান পরিচালনার কথাও জানান তিনি।