ফোন নম্বর শনাক্ত করার পাশাপাশি এবার অনলাইন প্রতারণা চিহ্নিত করার নতুন সেবা চালু করেছে ট্রুকলার। ‘স্ক্যাম চেকার’ নামের এই সেবার মাধ্যমে সন্দেহজনক ফোন নম্বর, ওয়েবসাইটের লিংক কিংবা কোনো মেসেজ যাচাই করা যাবে। এর জন্য আলাদা অ্যাপ ইনস্টল বা নতুন করে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন হবে না।
সুইডেনভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ট্রুকলার জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ভারতে সেবাটি চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
কোনো সন্দেহজনক ফোন নম্বর, ওয়েব ঠিকানা কিংবা মেসেজ স্ক্যাম চেকারে দিলে সেটি ট্রুকলারের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে ওই নম্বর, লিংক বা বার্তা সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহারকারীদের করা রিপোর্টও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
ওয়েবসাইটের ঠিকানা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত বা শর্ট লিংক থাকলে সেটির প্রকৃত ঠিকানা বের করার চেষ্টা করবে সেবাটি। এরপর বিভিন্ন রিডাইরেকশন অনুসরণ করে ওয়েবসাইটটির চূড়ান্ত গন্তব্য শনাক্ত করা হবে। এসব তথ্য ট্রুকলারের নিজস্ব ঝুঁকি-সংক্রান্ত ডেটা ও অন্যান্য সংকেতের সঙ্গে মিলিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ধারণ করা হবে।
সন্দেহজনক মেসেজও একইভাবে পরীক্ষা করা যাবে। বার্তায় থাকা ফোন নম্বর বা ওয়েব ঠিকানা শনাক্ত করে সেগুলো সম্পর্কে ট্রুকলারের ব্যবহারকারীদের করা রিপোর্ট দেখাবে স্ক্যাম চেকার।
তবে কোনো ফোন নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নামসহ বিস্তারিত পরিচয় জানতে হলে ট্রুকলারের প্রচলিত সেবা ব্যবহার করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে অ্যাকাউন্ট খুলে লগইন করতে হবে।
নতুন সেবাটিতে ট্রুকলারের ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্য বড় ভূমিকা রাখবে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ভারতে তাদের ব্যবহারকারীনির্ভর ‘স্ক্যামফিড’ ডেটাবেসে প্রায় ২০ হাজার প্রতারণাসংক্রান্ত রিপোর্ট রয়েছে। প্রতি সপ্তাহে সেখানে গড়ে আরও প্রায় ১ হাজার ৩০০টি নতুন রিপোর্ট যোগ হচ্ছে।
ট্রুকলার জানিয়েছে, ১৪ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ হাজার ২৯০ কোটি মেসেজ যাচাই করেছে তারা। এর মধ্যে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ মেসেজকে প্রতারণামূলক হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
ভবিষ্যতে স্ক্যাম চেকারে আরও ধরনের প্রতারণা শনাক্তের সুযোগ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। পাশাপাশি ছবি বা স্ক্রিনশট আপলোড করে সেটিও বিশ্লেষণের সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করছে ট্রুকলার।
বর্তমানে অনলাইন প্রতারণা শুধু ফোন কলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এসএমএস, বিভিন্ন মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম এবং ওয়েবসাইটের লিংকের মাধ্যমেও প্রতারণার চেষ্টা বাড়ছে।
২০২৫ সালের জিএসএমএ জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রতারণার শিকার হওয়ার কথা জানানো ব্যক্তিদের ৪৬ শতাংশ বলেছেন, মেসেজিং সেবার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। এ ছাড়া ৩৭ শতাংশ এসএমএস এবং ৩২ শতাংশ ফোন কলের মাধ্যমে প্রতারণার চেষ্টা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন।
ট্রুকলারের তথ্য বলছে, সন্দেহজনক ওয়েব ঠিকানা ও ফোন নম্বর সম্পর্কে জানতে প্রতি মাসে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখবার অনলাইনে খোঁজ করা হয়। নতুন সেবা তৈরির ক্ষেত্রে এই প্রবণতাকেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ভারত ট্রুকলারের সবচেয়ে বড় বাজার। দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৫ কোটির বেশি। তবে সেখানে ফোন নম্বর শনাক্তকরণ সেবাকে ঘিরে প্রতিযোগিতাও বাড়ছে।
ভারতের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি সহায়তায় কলারের নাম দেখানোর ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে অ্যাপল ও গুগলের মতো প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও ফোন নম্বর শনাক্তকরণ এবং স্প্যাম প্রতিরোধের সুবিধা দিচ্ছে।
এ অবস্থায় ফোন নম্বর শনাক্তকরণের পাশাপাশি লিংক ও মেসেজের মাধ্যমে পরিচালিত প্রতারণা ঠেকানোর দিকে নজর দিচ্ছে ট্রুকলার।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী রিশিত ঝুনঝুনওয়ালার ভাষ্য, প্রতারণার কৌশল এখন ফোন কল থেকে লিংক, মেসেজ এবং এমনকি ভয়েস ও ভিডিওর মতো বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে প্রতারণা ঠেকানোর প্রযুক্তিকেও এসব নতুন মাধ্যমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত করতে হবে।