র্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; কাজ, বিনোদন, ছবি তোলা, কনটেন্ট তৈরি থেকে শুরু করে দৈনন্দিন নানা কাজে এটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। ফলে আধুনিক ফিচার ও শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ফোনের চাহিদাও বাড়ছে। এমন সময়ে তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে ফ্ল্যাগশিপ ঘরানার অভিজ্ঞতা দিতে বাজারে নতুন স্মার্টফোন এনেছে হেলিও মোবাইল।
প্রতিষ্ঠানটির নতুন হেলিও ১১০ মডেলে রয়েছে থ্রিডি ডুয়াল-কার্ভড অ্যামোলেড ডিসপ্লে, মিডিয়াটেক হেলিও জি২০০ চিপসেট, ৬৪ মেগাপিক্সেলের মূল ক্যামেরা, ৬০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ার ব্যাটারি এবং ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং। এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে রিয়ার ভিউ ডিসপ্লে, এনএফসি ও ইনফ্রারেড রিমোটের মতো সুবিধা।
হেলিও ১১০-এর অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক এর নকশা। থ্রিডি ডুয়াল-কার্ভড ডিজাইনের পাশাপাশি ফোনটির স্লিম বডি ও এরগোনমিক গ্রিপ ব্যবহারকারীর হাতে আরামদায়ক অনুভূতি দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। পিইউ লেদার ও পলিকার্বোনেটের সমন্বয়ে তৈরি ফোনটি ফ্লেম অরেঞ্জ ও নেভি ব্লু—এই দুই রঙে পাওয়া যাবে।
ফোনটির পেছনে রয়েছে একটি ছোট রিয়ার ভিউ ডিসপ্লে। এতে ভলিউম পরিবর্তনের ভিজ্যুয়াল ফিডব্যাক, নোটিফিকেশন, সময় ও তারিখের পাশাপাশি টেক্সট ও ইমোজি দেখার সুবিধা রয়েছে। ফলে মূল ডিসপ্লের বাইরে ফোনের পেছনের অংশও কিছু তথ্য দেখার কাজে ব্যবহার করা যাবে।
হেলিও ১১০-এ রয়েছে ৬.৬৭ ইঞ্চির থ্রিডি ডুয়াল-কার্ভড অ্যামোলেড এফএইচডি প্লাস ডিসপ্লে। এর রেজ্যুলেশন ১০৮০×২৪০০ পিক্সেল, রিফ্রেশ রেট ১২০ হার্টজ এবং কালার ডেপথ ১০-বিট। সর্বোচ্চ ১০০০ নিটস ব্রাইটনেস থাকায় উজ্জ্বল পরিবেশেও স্ক্রিন দেখার সুবিধা পাওয়ার কথা।
দীর্ঘসময় ব্যবহারের কথা বিবেচনায় ফোনটিতে ফ্লিকার-ফ্রি প্রযুক্তি, ইন্টেলিজেন্ট ডিমিং, সার্কাডিয়ান রিদম স্লিপ কেয়ার ও আই কেয়ার ফিচার রাখা হয়েছে।
পারফরম্যান্সের জন্য ফোনটিতে ব্যবহার করা হয়েছে মিডিয়াটেক হেলিও জি২০০ চিপসেট। ৬ ন্যানোমিটার প্রযুক্তির অক্টা-কোর প্রসেসরের সঙ্গে রয়েছে ১১০০ মেগাহার্টজ জিপিইউ। এলপিডিডিআর৪এক্স র্যাম ও ইউএমসিপি মেমোরি ব্যবহারের ফলে দ্রুত ডেটা অ্যাকসেস ও মাল্টিটাস্কিংয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফোনটিতে রয়েছে ৮ জিবি র্যাম, যা এক্সটেন্ডেড র্যাম ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১৬ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। স্টোরেজ হিসেবে থাকছে ১২৮ জিবি অভ্যন্তরীণ মেমোরি।
হেলিও ১১০-এ ব্যবহার করা হয়েছে ৬০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ার হাই-ডেনসিটি ব্যাটারি। এর সঙ্গে রয়েছে ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি। প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ফোনের সঙ্গে থাকা ৪৫ ওয়াটের চার্জার দিয়ে প্রায় ৩৫ মিনিটে ব্যাটারির ৫০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব।
দীর্ঘসময় গেমিং, ভিডিও স্ট্রিমিং, ব্রাউজিং কিংবা নিয়মিত কাজের জন্য বড় ব্যাটারির সুবিধা পাওয়ার কথা।
ছবি ও ভিডিও ধারণের জন্য ফোনটিতে রয়েছে ৬৪ মেগাপিক্সেলের আইএমএক্স ক্যামেরা, যার সঙ্গে রয়েছে ইআইএস সাপোর্ট। পাশাপাশি রয়েছে ২ মেগাপিক্সেলের ম্যাক্রো ক্যামেরা।
ক্যামেরা বিভাগে লাইভ ফটো, ডুয়াল-ভিউ ভিডিও, স্পোর্টস মোড, ডকুমেন্ট কারেকশন ও স্মার্ট গ্রুপ ফটোর মতো ফিচারও রয়েছে। ডুয়াল-ভিউ ভিডিওর মাধ্যমে একই সময়ে ফোনের সামনে ও পেছনের ক্যামেরা ব্যবহার করে ভিডিও ধারণ করা যাবে।
সেলফির জন্য থাকছে ৩২ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। এতে পোর্ট্রেট ও বিউটি ফিচারের পাশাপাশি উচ্চ রেজ্যুলেশনের ছবি তোলার সুবিধা রয়েছে।
দৈনন্দিন ব্যবহারে বাড়তি সুবিধা দিতে হেলিও ১১০-এ রাখা হয়েছে এনএফসি, ইনফ্রারেড রিমোট, ইন্টেলিজেন্ট নয়েজ রিডাকশন ও ডুয়াল স্পিকার।
কলের সময় ব্যাকগ্রাউন্ডের শব্দ কমিয়ে ভয়েস ক্ল্যারিটি বাড়াতে নয়েজ রিডাকশন প্রযুক্তি কাজ করবে। অন্যদিকে আপার ও লোয়ার স্পিকারের সমন্বিত সেটআপ মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার কথা।
ফোনটিতে ধুলা ও পানির ছিটা থেকে সুরক্ষার জন্য আইপি৬৪ রেটিং রয়েছে। পাশাপাশি বডিতে আয়রন গার্ড প্রটেকশন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানির দাবি, প্রায় এক মিটার উচ্চতা থেকে পড়ে গেলেও ফোনটির ক্ষতির ঝুঁকি কমাতে এই সুরক্ষা ব্যবস্থা সহায়ক হবে।
নিরাপত্তার জন্য থাকছে ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর ও ফেস আনলক। এর পাশাপাশি জাইরোস্কোপ ও কম্পাসের মতো সেন্সরও রয়েছে।
হেলিও ১১০ স্মার্টফোনটি অ্যান্ড্রয়েড ১৬ অপারেটিং সিস্টেমে চলবে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে ফোনটিতে অ্যান্ড্রয়েড ১৭ আপডেট নেওয়ার সুবিধাও থাকবে।
সব মিলিয়ে হেলিও ১১০-এ ডিসপ্লে, পারফরম্যান্স, ক্যামেরা, ব্যাটারি ও স্মার্ট ফিচারের সমন্বয় করা হয়েছে। ফোনটির সঙ্গে গ্রামীণফোনের একটি বান্ডেল অফারও থাকছে।
হেলিও মোবাইল জানিয়েছে, হেলিও ১১০-এর দাম ২৬ হাজার ৯৯৯ টাকা। এর সঙ্গে থাকছে ১৫ মাসের সার্ভিস ওয়ারেন্টি।