আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত শতাধিক গুম-খুনের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আজ অবশিষ্ট সাক্ষ্য দেবেন মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার ১৫তম সাক্ষী হিসেবে রফিকুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ওই দিন তিনি আংশিক জবানবন্দি দেন। বাকি অংশের সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৪ অক্টোবর দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। তবে সেদিন সাক্ষ্যগ্রহণ না হওয়ায় আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে তারা। তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি শেষ হলে মামলাটি যুক্তিতর্কের পর্যায়ে এগিয়ে যাবে। তবে আসামিপক্ষ চাইলে সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ পাবে।
এর আগে, ২৭ সেপ্টেম্বর জিয়াউল আহসানের মামলায় সাক্ষ্য দেন কামরুল ইসলাম। তদন্তের সময় বিভিন্ন স্থান থেকে জব্দ করা আলামত ও সংশ্লিষ্ট তথ্য ট্রাইব্যুনালের সামনে তুলে ধরেন তিনি। একই দিনে মামলার ১৩তম সাক্ষী র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) সাব্বির রহমানের জেরা শেষ হয়। তিনি মামলার সর্বশেষ চাক্ষুষ সাক্ষী ছিলেন।
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলায় সুনির্দিষ্ট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুর সদর থানার পুবাইলে সড়কের পাশে জিয়াউল আহসানের সরাসরি উপস্থিতিতে সজলসহ তিনজনকে হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগের সময়কাল ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল। এ সময়ে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের চরদুয়ানী খালসংলগ্ন বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তৃতীয় অভিযোগেও ৫০ জনকে হত্যার কথা বলা হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, একই সময়ে বরগুনার বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তথাকথিত বনদস্যু দমনের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনকে হত্যা করা হয়।
এসব হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। একই দিনে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ দাখিল করে।