রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার দক্ষিণ মানিকদী এলাকায় নিউ গিনি প্রোপার্টিজ লিমিটেডের একটি প্রকল্পে হামলা, গুলিবর্ষণ, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মামুন (৩২), মো. আসলাম (২৪) ও মুন্না (২৯)। রোববার তাদের ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক তারেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুনানির সময় আসামিদের এজলাসে তোলা হয়নি। তাদের পক্ষে কোনো জামিন বা অন্য কোনো আবেদনও করা হয়নি। হাজতি পরোয়ানার মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি প্রোপার্টিজের প্রকল্পে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন রোববার ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন প্রকল্পের ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, পূর্বশত্রুতার জেরে একদল ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র, শটগান, রিভলবার, চাপাতি, রামদা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রকল্পে প্রবেশ করে। সেখানে প্রায় ৫০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। হামলার সময় প্রকল্পের সাইড ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজ এবং কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করা হয়।
হামলাকারীরা প্রকল্পের প্রধান ফটক, কাচ ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরের পাশাপাশি অফিসের আসবাব ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জামও নষ্ট করে। এ ছাড়া নগদ টাকা, নির্মাণসামগ্রী, তার, রড, একটি স্কুটারসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, প্রকল্পের প্রায় ৫ হাজার বর্গফুটের একটি ফ্লোরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ‘ব্রাউন ফিস স্টুডিও’ রয়েছে। হামলাকারীরা সেখানে ঢুকে দুটি টেলিভিশন, এসি, ফার্নিচারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে।
এ ঘটনায় স্টুডিওটির প্রায় ৯৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রীর মধ্যে শুটিং ও টেকনিক্যাল কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দামি সরঞ্জামও রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, প্রকল্পের প্রধান গেট, থাই গ্লাস ও কেঁচি গেট ভাঙচুরে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অফিসের কম্পিউটার, মনিটর, ফ্রিজ, টেলিভিশন ও আলমারি ভাঙচুরে ক্ষতি হয়েছে আরও প্রায় ১২ লাখ টাকা।
এ ছাড়া অফিসের লকার ভেঙে নির্মাণসামগ্রী কেনার জন্য রাখা ২৫ লাখ টাকা, প্রায় ২০০ ফুট বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক তার, ২৩ টন রড এবং এক ফ্ল্যাট মালিকের প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের একটি স্কুটার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলায় হামলার ঘটনায় মোট প্রায় ১ কোটি ৪২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ ৪৪ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আবেদনে পুলিশ জানায়, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ শটগান দিয়ে পাঁচ রাউন্ড পাল্টা গুলি ছোড়ে।
পরে ঘটনাস্থল থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ১১ নম্বর আসামি মামুন ও ১২ নম্বর আসামি মো. আসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, মামুনের কাছ থেকে দুটি এবং আসলামের কাছ থেকে একটি কাঠের বাটযুক্ত ধারালো ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের পাঁচটি ব্যবহৃত গুলির খোসাও জব্দ করা হয়।
পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় ধস্তাধস্তিতে তিনজন সামান্য আহত হলে তাদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মামলায় নাম উল্লেখ করা ১৩ আসামির মধ্যে রয়েছেন—শাহরিয়া মাহমুদ (৬০), মো. আবুল কাশেম (৫৩), মো. বাবুল হোসেন (৪৯), অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী (৬৭), মোহাম্মদ সাহিনুজ্জামান (৪৭), মো. মতিউর রহমান (৪৮), মজিবুর রহমান (৪৭), নুরুল ইসলাম (৫১), মিজানুর রহমান (৫৯), এমকে আজাদ (৫৪), মামুন (৩২), মো. আসলাম (২৪) ও মুন্না (২৯)।
তাদের মধ্যে মামুন, আসলাম ও মুন্নাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয়েছে। মামলায় এজাহারভুক্ত ১৩ জনের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।