শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের চার দশকের বেশি সময় পর মেজর মোজাফফর হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ায় ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তার গ্রেপ্তারের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এ ঘটনায় নতুন করে তদন্ত হলে দীর্ঘদিনের অজানা কিছু তথ্য সামনে আসতে পারে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ওই ঘটনার পর সেনা আইনে বিদ্রোহের অভিযোগে কয়েকজনের বিচার হলেও, জিয়াউর রহমান হত্যার বিষয়ে পৃথক কোনো হত্যা মামলা বা বিচার হয়নি বলে দাবি করেছেন কয়েকজন বিশ্লেষক।
বাংলাদেশ ডিফেন্স জার্নালের সম্পাদক আবু রূশদ দাবি করেন, হত্যাকাণ্ডের পর মেজর মোজাফফর হোসেন ভারত চলে যান। সেখানে তিনি ‘বিপ্লব সরকার’ ও ‘জয় ব্যানার্জী’ নামে পরিচয় ব্যবহার করে পাসপোর্ট সংগ্রহ করেন এবং সেই পরিচয়ে কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বীর বিক্রম জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরীর একটি বইয়ে উল্লেখ রয়েছে যে, থাইল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত থাকাকালে মেজর মোজাফফর ও মেজর খালেদ তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
আবু রূশদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মেজর মোজাফফর বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং তখনও বিভিন্ন পরিচয় ব্যবহার করতেন। পরে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার আগে তিনি আবার দেশ ত্যাগ করেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ পুনরায় ক্ষমতায় এলে তিনি আবার দেশে ফিরে বসবাস শুরু করেন বলে তার দাবি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৮১ সালের বিচার ছিল মূলত সেনা বিদ্রোহের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। যেহেতু সেটি সামরিক আদালতে পরিচালিত হয়েছিল, তাই বিচারপ্রক্রিয়ার অনেক বিষয় জনসমক্ষে আসেনি।
আবু রূশদ বলেন, “জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের আলাদা কোনো বিচার হয়নি। কেবল সেনা বিদ্রোহের বিচার হয়েছে। ফলে একটি পৃথক হত্যা মামলা হলে ঘটনার বিস্তৃত তদন্তের সুযোগ তৈরি হতে পারে।”
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড এবং সেনা বিদ্রোহ—দুটি ভিন্ন বিষয়। তার মতে, হত্যা মামলার বিচার বেসামরিক আদালত অথবা সামরিক আদালত—উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে। কোন আদালতে বিচার হবে, তা নির্ধারণ করবে সরকার।
বিশ্লেষকদের একটি অংশের অভিমত, মেজর মোজাফফর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছেন, যেকোনো নতুন তথ্যকে গ্রহণ করার আগে তা নির্ভরযোগ্য দলিল, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করা জরুরি।