অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা সহ নানা অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাসমিন আহম্মেদকে অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসক। বুধবার সকাল থেকেই প্রধান শিক্ষকের অপসারণ চেয়ে তার অফিস কক্ষের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছিলো বেশ কিছু ছাত্রী। এসময় কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন প্রধান শিক্ষক। এর আগে রোববার সকাল থেকে ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা আন্দোলন শুরু করলে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আবুল হায়াত ছুটে আসেন। সেদিনই বিদ্যালয়ের এ সব বিষয় তদন্তের জন্য দুটি কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আবিদা সিফাতকে আহবায়ক করে একটি এবং বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের টিফিন, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও ক্লাশে উপস্থিতি বিষয়ক কমিটিতে নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আজহার আলীকে আহবায়ক করে আরোও একটি মোট দূইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তিন কার্য দিবসের মধ্যেই তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিবেন বলে সেদিনই নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আজহার আলী জানিয়েছিলেন। তিন কার্য দিবস শেষ হওয়ার আগেই বুধবার সকাল থেকে আবার আন্দোলন শুরু করে ছাত্রীরা। খবর পেয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুমনী আক্তার বিদ্যালয়ে আসেন। এ সময় ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, ৬ষ্ঠ ও অষ্টম শ্রেণীর বোর্ড ফি ২৩৩ ও ২৮২ টাকা হলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ ও ৪০০ টাকা আদায় করে প্রধান শিক্ষক। এছাড়া সাড়ে ৯ টাকার টিফিন সরবরাহ করে ১৮টাকা মূল্যের টিফিন লিখে ভাউচারের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ করলেও প্রধান শিক্ষক কর্নপাত করেনি। পরে নাটোর জেলা প্রশাসক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাসমিন আক্তারকে অনিদির্ষ্টকালের জন্য ছুটিতে পাঠিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাসমিন আক্তার বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে সব অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। কারো ইন্ধনে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক আমি ছুটিতে চলে গেলাম।’ জেলা প্রশাসক মোছাঃ সুমনী আক্তার বলেন, অনিয়ম দুর্নীতি ও শিক্ষার্থীদের সাথে অশোভন আচরণের অভিযোগে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে আন্দোলন করছিল শিক্ষার্থীরা। এরই প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ (বুধবার) ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অনির্দিষ্টকালের ছুটি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি পুরণ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছে।