বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনা ভবিষ্যতে যেকোনো অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করবে। এটা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকারকে আরও দৃঢ় করবে। সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসকে সামনে রেখে দলের প্রস্তুতিমূলক যৌথসভা শেষে তিনি এসব কথা বলেন। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ওই সময় দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। ৭ নভেম্বরের চেতনা ছিল এসব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চেতনা। তিনি বলেন, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বাকশাল প্রতিষ্ঠা এবং ধারাবাহিক রক্তক্ষয়ী ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। সাধারণ মানুষ ও সেনাসদস্যদের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ৭ নভেম্বরের বিপ্লব সংঘটিত হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ৭ নভেম্বরের পর দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভবিষ্যতে কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তি জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করলে ৭ নভেম্বরের চেতনা আবারও জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করবে। এ চেতনা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। যৌথসভায় ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় ঢাকায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হবে। তিনি আরও জানান, ওই দিন বেলা ১১টায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করা হবে। এ ছাড়া বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে পোস্টার প্রকাশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে। ছাত্রদলের উদ্যোগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর কর্মসূচিও রয়েছে। বিএনপির বাইরের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনও দিবসটি উপলক্ষে কর্মসূচি পালন করবে বলে জানান তিনি। রিজভী বলেন, বিএনপির আলোচনা সভার সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ৬ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। দলের চেয়ারম্যানের সম্মতি পাওয়ার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মসূচির তারিখও চূড়ান্ত করে লিখিতভাবে জানানো হবে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত যৌথসভায় দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ ও সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সসহ বিএনপি এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব, দিবসটি পালনের কর্মসূচি এবং কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।