আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করলে তেহরানও একই মাত্রার জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের এক আইনপ্রণেতা। দেশটির সংসদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটির সদস্য ফাদা হোসেন মালেকি এ মন্তব্য করেছেন।
বুধবার ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম খবর অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কথা বলেন তিনি।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পরমাণু হামলার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মালেকি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে হঠকারী সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে এমন পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের হামলা হলে তা শুধু দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বিশ্ব পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ ও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করবে, ইরানের প্রতিক্রিয়াও সেই হামলার ধরন বিবেচনা করেই দেওয়া হবে বলে জানান মালেকি। পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরান একই ধরনের জবাব দেবে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের অস্ত্র প্রয়োগ করবে, তেহরানের প্রতিক্রিয়াও সে অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
তবে ইরানের কাছে বর্তমানে পরমাণু অস্ত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি এই আইনপ্রণেতা।
ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে মালেকি বলেন, ইরানের হাতে এমন বিভিন্ন সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা রয়েছে, যার সবকিছু এখনো প্রকাশ্যে আনা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো নতুন পদক্ষেপের জবাব সমান মাত্রায়, এমনকি প্রয়োজন হলে আরও কঠোরভাবেও দেওয়া হতে পারে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইরান এখন কেবল প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ নেই; দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সক্রিয় প্রতিরোধের নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থবির হয়ে থাকা আলোচনা নিয়েও সাক্ষাৎকারে কথা বলেন মালেকি। তার অভিযোগ, পূর্ববর্তী সমঝোতার আওতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ওয়াশিংটন ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আগের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না করে, তাহলে তেহরানের পক্ষে আলোচনায় ফিরে যাওয়া কঠিন হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুর সমাধানও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের চলমান আলোচনার প্রসঙ্গেও কথা বলেন মালেকি। তার দাবি, এটি একটি পৃথক দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব তেহরান গ্রহণ করেনি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানি এই আইনপ্রণেতার এমন বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।