নিজস্ব প্রতিবেদক:
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ শুক্রবার সারা দেশে পালিত হচ্ছে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী। বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্যায় ও অত্যাচারের অবসান এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে এই দিনে পৃথিবীতে আবির্ভূত হন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মন্দিরে নেওয়া হয়েছে বিশেষ আয়োজন। দিনভর পূজা-অর্চনা, হরিনাম সংকীর্তন, নামযজ্ঞসহ নানা ধর্মীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। অনেক ভক্ত উপবাস পালন করে ঘরে ও মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনায় অংশ নিচ্ছেন।
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দ্বাপর যুগের শেষভাগে মথুরার অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে জন্মগ্রহণ করেন শ্রীকৃষ্ণ। তাঁর এই আবির্ভাবের পবিত্র তিথিই প্রতিবছর জন্মাষ্টমী হিসেবে পালন করেন ভক্তরা।
দিনটি উপলক্ষে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পৃথক বাণীতে তারা দেশবাসীসহ বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে শ্রীকৃষ্ণকে পরোপকারী, দক্ষ রাজনীতিক ও সমাজ সংস্কারক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সত্য, ন্যায়, মানবতা ও কল্যাণের আদর্শ নিয়ে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল।
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় বিভেদ, সংঘাত ও হানাহানি বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করতে হবে। শ্রীকৃষ্ণের দর্শন ও শিক্ষা অনুসরণ করে অসাম্প্রদায়িক ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ ও শিক্ষা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে পারে।
সম্প্রীতির পরিবেশ কেউ যাতে নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল ও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।