উয়েফা নেশন্স লিগে ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলা নিয়ে আয়ারল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলে তৈরি হয়েছিল মতবিরোধ। ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে দলটির কয়েকজন খেলোয়াড় ম্যাচটি বর্জনের পক্ষে অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত খেলোয়াড়দের ভোটাভুটিতে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)। তাদের বক্তব্য, খেলাধুলার সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধকে মেলানো উচিত নয়।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, তাদের কাছে সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয় হলো—‘ফুটবল জয়ী হয়েছে’। সংস্থাটির মতে, ফুটবল ও রাজনীতির মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন থাকা প্রয়োজন। অন্যথায় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যেতে পারে, যা পুরো খেলাটির জন্য নেতিবাচক পরিণতি ডেকে আনবে।
বিবৃতিতে আয়ারল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএআই) ও জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে বলা হয়, তারা শেষ পর্যন্ত ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক কাজ করেছেন। তবে এই সিদ্ধান্ত নিতে তাদের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় লেগেছে বলেও মন্তব্য করেছে ইসরায়েলি সংস্থাটি।
নেশন্স লিগের ম্যাচে আজ রোববার রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে হাঙ্গেরিতে মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েল।
ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আয়ারল্যান্ডের এক খেলোয়াড় প্রথমে ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান। এরপর ম্যাচের আগের দিন আইরিশ খেলোয়াড়েরা সংবাদ সম্মেলন ও অনুশীলন কর্মসূচি পিছিয়ে দেন।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের অন্যতম সমালোচক হিসেবে পরিচিত আয়ারল্যান্ডে ম্যাচটি না খেলার দাবিও উঠেছে। এরই মধ্যে ম্যাচ বর্জনের আহ্বান জানিয়ে দেশটিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইসরায়েলকে ইউরোপীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার জন্য উয়েফার কাছে আবেদন করার পক্ষে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ভোট দিয়েছিল এফএআই। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে ইসরায়েলের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচগুলো খেলার বিষয়ে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে সংস্থাটি।
এফএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভিড কাউরেল জানিয়েছেন, ম্যাচকে ঘিরে আইরিশ খেলোয়াড়দের মিডিয়া কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। একই সঙ্গে ম্যাচ শুরুর আগে ইসরায়েলি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাবেন না আইরিশ খেলোয়াড়েরা।
তবে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য এর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ম্যাচের আগে দুই দেশের পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হবে। পাশাপাশি দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচদের পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলানো এবং পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে।
ফলে মাঠে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হলেও রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রতীকী আচরণ নিয়ে দুই দলের মধ্যে দূরত্ব স্পষ্ট থাকছে।