লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলায় শীতকালীন আগাম সবজি চাষ ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে কৃষকদের। ভোরের আলো ফোটার আগেই অনেকে ছুটছেন খেতে। কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ দিচ্ছেন সেচ, আবার কেউ ব্যস্ত কীটনাশক প্রয়োগ কিংবা নতুন চারা রোপণে। জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন দেখা মিলছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম, মুলা, শসা, গাজর, পালং, বরবটি ও বেগুনসহ নানা ধরনের সবজি।
কৃষকদের প্রত্যাশা, মৌসুমের শুরুতেই বাজারে তুলতে পারলে এসব আগাম সবজি থেকে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি দাম পাওয়া যাবে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক আগাম সবজি বিক্রি করে লাভের মুখও দেখেছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার পাঁচ উপজেলায় ৪ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় ৭৩ হাজার ৩৭৫ টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে কৃষি বিভাগের।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই সবজির খেতে ব্যস্ত কৃষকেরা। কোথাও ফুলকপি ও বাঁধাকপির সারি, কোথাও শিমের মাচা। পাশাপাশি মুলা, গাজর, বেগুন, বরবটি ও শাকজাতীয় সবজির ক্ষেতও নজর কাড়ছে।
কৃষকেরা বলছেন, আগাম সবজির চাহিদা বাজারে তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে মৌসুমের মূল উৎপাদন বাজারে আসার আগেই সবজি বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যায়। স্বল্প সময়ে ফসল ঘরে তোলা সম্ভব হওয়ায় একই জমিতে পরবর্তী সময়ে অন্য ফসল করার সুযোগও থাকে।
আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের চরিতাবাড়ি গ্রামের কৃষক রহিদুল ইসলাম দেড় বিঘা জমিতে ট্রপিক্যাল কুইন জাতের বাঁধাকপি এবং মাস্টার ৪৫ ও ক্যাপ্টেন জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। পাশাপাশি কিছু জমিতে করেছেন শিমের আবাদ।
রহিদুল ইসলাম জানান, সবজি চাষে তার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফসল ভালো হলে সেখান থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যেই ক্ষেতের সবজি বাজারে উঠতে শুরু করবে বলে জানান এই কৃষক।
লালমনিরহাট পৌর এলাকার নয়ারহাট গ্রামের কৃষক রহমত আলী বলেন, তিনি সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করেন। শীত মৌসুমে আগাম জাতের ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, পালংশাক ও ধনেপাতার চাষ করেন।
তার ভাষায়, এসব সবজির বাজারে চাহিদা ভালো থাকে এবং আগাম বাজারজাত করতে পারায় দামও তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। এ কারণে শীতকালীন আগাম সবজি চাষে লাভও বেশি হচ্ছে।
জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, আগাম জাতের সবজি চাষ কৃষকদের জন্য তুলনামূলক লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এ ধরনের চাষে আগ্রহ বাড়ছে। কম সময়ে উৎপাদন ও বাজারজাত করা সম্ভব হওয়ায় কৃষকেরা দ্রুত বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাচ্ছেন এবং বাড়তি মুনাফার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আরেফিন বলেন, আগাম সবজি চাষের মাধ্যমে জেলার কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। এ উৎপাদন আরও বাড়াতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।