পাহাড়ের মাটিতে ফলানো রসালো ও সুস্বাদু জাম্বুরায় জমজমাট হয়ে উঠেছে রাঙামাটির অর্থনীতি। টসটসে মিষ্টি স্বাদের এই ফলের চাহিদা স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে এখন ঢাকা ও চট্টগ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় ভালো দামও পাচ্ছেন কৃষকরা। পাশাপাশি লাভবান হচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরাও।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। এরপরও জাম্বুরার ভালো বাজারদর ও চাহিদা পাহাড়ের জুমচাষিদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে কাপ্তাই হ্রদ পেরিয়ে নৌপথে জাম্বুরা এসে পৌঁছায় রাঙামাটি ট্রাক টার্মিনাল ঘাটে। সেখান থেকে শ্রমিকদের মাধ্যমে ফলগুলো ট্রাকে তোলা হয়। প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ ট্রাক জাম্বুরা ঢাকা ও চট্টগ্রামের উদ্দেশে পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষক সোহাগ চাকমা বলেন, রাঙামাটির খুচরা বাজারে সবসময় ভালো দাম পাওয়া যায় না। এ ছাড়া জাম্বুরা সংরক্ষণের জন্য এলাকায় কোনো হিমাগার না থাকায় বাধ্য হয়ে পাইকারদের কাছে বিক্রি করতে হয়। তবে খুচরা বাজারে দাম তুলনামূলক বেশি। সেখানে এক জোড়া জাম্বুরা ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করা যায়।
পাইকারি ব্যবসায়ী মো. সোহেল বলেন, কিছুদিন আগেও পরিবহন খরচ কম থাকায় ব্যবসা বেশ জমজমাট ছিল। এখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। তবে সমতলের বাজারে জাম্বুরার চাহিদা থাকায় ব্যবসা এখনো ভালোভাবেই চলছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর রাঙামাটিতে ১ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন জাম্বুরা উৎপাদিত হয়েছে। এতে কৃষক পর্যায়ে প্রায় ২০ কোটি টাকা এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, অনুকূল আবহাওয়া, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও উচ্চ ফলনের কারণে পাহাড়ে জাম্বুরা চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শও উৎপাদন বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, জাম্বুরা একটি লাভজনক ফল। এটি সহজে পচে না এবং ফলনও ভালো হয়। চলতি বছর রাঙামাটিতে জাম্বুরার বাম্পার ফলন হয়েছে বলা যায়।
তিনি বলেন, উপযুক্ত আবহাওয়া ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির কারণে উচ্চ ফলন সম্ভব হচ্ছে। কৃষকদের নিয়মিত উচ্চ ফলনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাজারে জাম্বুরার ভালো চাহিদা থাকায় এর চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। ফলে পাহাড়ের জুমচাষিদের মধ্যেও জাম্বুরা আবাদে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আশা, পরিবহনব্যবস্থা সহজ করা, সংরক্ষণের জন্য হিমাগার স্থাপন এবং বাজারজাতকরণে সহযোগিতা বাড়ানো গেলে পাহাড়ের জাম্বুরা আরও বড় বাজার তৈরি করতে পারবে। এতে রাঙামাটির কৃষি অর্থনীতিতে ফলটির অবদানও আরও বাড়বে।