শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফ্যাসিবাদী আমলে বইয়ে ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি রাখাকে প্রাধান্য দেওয়া হতো: রিজভী ১৭ বছরের অপচয়-দুর্নীতি বর্তমান সরকার বন্ধ করেছে: মঈন খান জঙ্গল সলিমপুরে সারদার আদলে পুলিশ একাডেমি হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির নরসিংদী সদর উপজেলা শাখার কমিটি গঠন বাউফলে ১২৪ পিচ ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার নাটোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আন্দোলনের মুখে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনির্দিষ্টকালের ছুটিতে প্রবীণদের মর্যাদাপূর্ণ পারিবারিক ও সামাজিক সম্পদে রূপান্তরের আহ্বান সমাজকল্যাণমন্ত্রীর নগর জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর

অসুস্থ হলে ‘ওষুধ’ খোঁজে হাতি, শাবকদেরও খাওয়ায় ঔষধি গাছ

ইমরোজ শাহেদ
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

বনে অসুস্থ হলে মানুষ যেমন ওষুধের সন্ধান করে, আফ্রিকান হাতিরাও কি তেমনই নিজেদের চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট উদ্ভিদ বেছে নেয়? কেনিয়ার মাউন্ট এলগন অঞ্চলে পরিচালিত এক গবেষণা এই প্রশ্নের নতুন দিক উন্মোচন করেছে। গবেষকদের মতে, স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণ থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে যে, আফ্রিকান হাতিরা অসুস্থতা মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গাছ ব্যবহার করে।

শুধু নিজেরাই নয়, মা হাতিদের শাবকদেরও নির্দিষ্ট উদ্ভিদের অংশ খাওয়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণায় মোট ৩৫ প্রজাতির উদ্ভিদের ব্যবহারের কথা উঠে এসেছে। এর মধ্যে ২৫টির ঔষধি ব্যবহারের তথ্য স্থানীয়ভাবে আগে থেকেই পরিচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির গবেষক ড. এলোডি ফ্রেইম্যানের নেতৃত্বে বিজ্ঞানীরা সংরক্ষণবিষয়ক সংস্থা মাউন্ট এলগন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণাটি পরিচালনা করেন। এ জন্য তাঁরা বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবীণদের সাক্ষাৎকার নেন।

অসুস্থ হলে নির্দিষ্ট গাছ বেছে নেয়

গবেষকদের কাছে দেওয়া স্থানীয়দের বর্ণনায় জানা যায়, হাতিরা অসুস্থ বা শারীরিক অস্বস্তিতে পড়লে নির্বিচারে গাছপালা খায় না; বরং নির্দিষ্ট কিছু উদ্ভিদ বেছে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

একজন বন্যপ্রাণী পর্যবেক্ষক জানিয়েছেন, তিনি হাতিমায়েদের ‘অঙ্গুরউইট’ নামে পরিচিত একটি উদ্ভিদ শাবকদের খাওয়াতে দেখেছেন। স্থানীয়ভাবে উদ্ভিদটি পেটব্যথাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ব্যবহৃত হয়।

ওই পর্যবেক্ষকের বর্ণনা অনুযায়ী, হাতিমায়েরা পাতাগুলো সরিয়ে উদ্ভিদের কিছু অংশ অন্য গাছের শিকড়ের সঙ্গে চিবিয়ে মিশিয়ে নেয়। এমনকি সেই উদ্ভিদজাত উপাদান নিজেদের দুধের সঙ্গে মিশিয়ে শাবকদের দেওয়ার ঘটনাও তিনি দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। শাবকেরা পরে উপাদানটি চিবিয়ে খায় এবং শক্ত অংশ ফেলে দেয়।

তবে এই একটি ঘটনাকে হাতিদের সচেতন চিকিৎসা আচরণের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন জাপানে কর্মরত প্রাইমেটোলজিস্ট অধ্যাপক মাইকেল হাফম্যান। তাঁর মতে, ঘটনাটি অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক হলেও হাতিরা শাবকদের নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ওই উদ্ভিদ ব্যবহার করেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও পর্যবেক্ষণ ও প্রমাণ প্রয়োজন।

এবার ক্যামেরায় ধরা হবে হাতিদের আচরণ

গবেষকেরা এরই মধ্যে সেই প্রমাণ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। স্থানীয় বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের হাতে ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে, যাতে হাতিরা কখন, কোন পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে নির্দিষ্ট উদ্ভিদ ব্যবহার করছে, তা সরাসরি নথিবদ্ধ করা যায়।

গবেষণার আরেক প্রধান গবেষক, হ্যামবার্গের বের্নহার্ড নখট ইনস্টিটিউট ফর ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ড. ফাবিয়েন শুলৎজ বলেন, স্থানীয় মানুষের জ্ঞান গবেষকদের জন্য একটি ‘মানচিত্রের’ মতো কাজ করেছে। এখন হাতিদের অনুসরণ করে নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতিতে তারা নির্দিষ্ট কোনো উদ্ভিদ বেছে নেয় কি না এবং ওই উদ্ভিদের মধ্যে সত্যিই সংশ্লিষ্ট জৈবিক কার্যকারিতা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

‘লবণ-খননকারী’ হাতির আরেক বিস্ময়

মাউন্ট এলগন অঞ্চলের হাতিরা তাদের ব্যতিক্রমী আচরণের জন্য আগে থেকেই গবেষকদের নজরে রয়েছে। তাদের ‘লবণ-খননকারী হাতি’ও বলা হয়। গুহার ভেতরে ঢুকে দাঁত দিয়ে পাথর ঘষে প্রয়োজনীয় খনিজ সংগ্রহ করার অভ্যাসের কারণে তাদের এই নাম।

এবার উদ্ভিদ ব্যবহারের তথ্য সেই বিস্ময়ের সঙ্গে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। গবেষণাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, হাতিদের খাদ্যাভ্যাসের বাইরেও উদ্ভিদজগতের সঙ্গে তাদের একটি জটিল সম্পর্ক থাকতে পারে।

হাতির স্ব-চিকিৎসার ইতিহাস অনেক পুরোনো

প্রাণীদের স্ব-চিকিৎসার ধারণা অবশ্য নতুন নয়। হাতির এমন আচরণ নিয়ে প্রাচীনতম বৈজ্ঞানিক বর্ণনার একটি পাওয়া যায় খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকের শুরুর দিকের রোমান লেখক ক্লডিয়াস এলিয়ানের লেখায়। তাঁর De Natura Animalium গ্রন্থে আহত একটি হাতির বর্শা ও তীরের আঘাতের পর জলপাই গাছের ফুল ও তেল খাওয়ার বর্ণনা রয়েছে।

আধুনিক বিজ্ঞানও এখন দেখছে, শুধু হাতি নয়, প্রাণিজগতের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে স্ব-চিকিৎসার নানা ধরনের আচরণ রয়েছে। মশা, ড্রোসোফিলা, মৌমাছি এবং বিভিন্ন প্রজাতির গ্রেট এপের ক্ষেত্রেও এমন আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

অধ্যাপক হাফম্যানের মতে, নতুন নতুন প্রাণী নিয়ে গবেষণা মানুষের নিজস্ব ঔষধি ইতিহাস ও প্রকৃতির সঙ্গে চিকিৎসাবিজ্ঞানের সম্পর্ক বোঝার সুযোগ তৈরি করছে।

বনের ভেতরেই লুকিয়ে থাকতে পারে ভবিষ্যতের ওষুধ

এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি হলো প্রাকৃতিক ওষুধের সম্ভাবনা। গবেষক ড. ফ্রেইম্যানের মতে, মানুষের ব্যবহৃত অনেক ওষুধই উদ্ভিদ, শৈবাল, ছত্রাক ও প্রবালপ্রাচীর থেকে পাওয়া যৌগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।

তাই বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হলে শুধু প্রাণীর অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়ে না; হারিয়ে যেতে পারে মানুষের অজানা বহু প্রাকৃতিক উপাদানও। কোনো একটি উদ্ভিদের ঔষধি গুণ হয়তো এখনো বিজ্ঞানীদের জানা নেই, অথচ সেটিই ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ওষুধের উৎস হতে পারে।

মাউন্ট এলগনের হাতিদের নিয়ে গবেষণাটি সেই সম্ভাবনার কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় মানুষের বহু বছরের পর্যবেক্ষণ এবার বিজ্ঞানীদের জন্য গবেষণার পথ খুলে দিয়েছে। হাতিরা ঠিক কী কারণে কোন গাছ বেছে নেয়, সেই উত্তর হয়তো শুধু হাতিদের আচরণই নয়, ভবিষ্যতের চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পর্কেও নতুন তথ্য দিতে পারে।

অর্থাৎ, বনের গাছপালা হাতিদের কাছে শুধু খাবার নয়—কিছু ক্ষেত্রে সেগুলো হয়তো তাদের প্রাকৃতিক ‘ফার্মেসি’র অংশ।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৪০ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
  • ১৬:০৩ অপরাহ্ণ
  • ১৭:৪৫ অপরাহ্ণ
  • ১৮:৫৮ অপরাহ্ণ
  • ৫:৫১ পূর্বাহ্ণ
©2026 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102