পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও প্রতিনিয়ত জীবনসংগ্রামে নানা প্রতিকূলতার মোকাবিলা করছেন। শ্রমজীবী নারীর শোষণ, নিপীড়ন ও টিকে থাকার লড়াইকে কেন্দ্র করে নাটকের দল বটতলা মঞ্চে আনল নাটক ‘রাইজ অ্যান্ড শাইন’।
বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে নাটকটির মঞ্চায়ন হয়।
ইতালীয় নাট্যকার দারিও ফো ও ফ্র্যাঙ্কা রাম-এর রচনা অবলম্বনে নাটকটির রূপান্তর করেছেন অধ্যাপক আবদুস সেলিম। নির্দেশনায় ছিলেন ম. সাঈদ।
নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন শ্রমজীবী নারী। সংসারের টানাপোড়েন, কর্মক্ষেত্রের চাপ এবং সামাজিক বাস্তবতার নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও যিনি প্রতিনিয়ত টিকে থাকার চেষ্টা করেন। একজন নারীর ব্যক্তিগত জীবনসংগ্রামের মধ্য দিয়ে নাটকে ফুটে উঠেছে শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের প্রতিদিনের বাস্তবতা।
গল্পে দেখা যায়, প্রতিদিনের ব্যস্ত নগরজীবনের অসংখ্য নারীর মতোই এক নারী সকালে ঘর থেকে বের হন। সংসারের নানা ঝামেলা সামলে তাকে ছুটতে হয় কর্মস্থলে। বহুজাতিক ক্রেতাদের জন্য পোশাক তৈরি করা কারখানায় কাজ করতে গিয়ে তাকে অতিরিক্ত সময় শ্রম দিতে হয়। কর্মক্ষেত্রের কঠিন পরিস্থিতির পাশাপাশি ঘরেও রয়েছে বদমেজাজি ও দায়িত্বহীন স্বামী। ফলে সংসার, কর্মজীবন ও সামাজিক বাস্তবতার বহুমুখী চাপ ক্রমেই তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে।
তবে পরিস্থিতির কাছে আত্মসমর্পণ করেন না সেই নারী। নিপীড়ন ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে একসময় তিনি নিজের জীবনকে নতুনভাবে দেখার চেষ্টা করেন। তার এই জেগে ওঠার গল্প ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে অসংখ্য শ্রমজীবী নারী, মা ও কর্মজীবী নারীর সম্মিলিত অভিজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি।
নাটকটিতে মঞ্চে মূলত একজন নারী চরিত্রের জীবনকাহিনি তুলে ধরা হলেও তার অভিজ্ঞতার সঙ্গে দর্শক নিজেদের পরিচিত বহু নারীর জীবনের মিল খুঁজে পান। ক্ষমতার নানা সমীকরণে সাধারণ মানুষের টিকে থাকার সংগ্রামও নাটকের কাহিনিতে বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
‘রাইজ অ্যান্ড শাইন’-এ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন বটতলার নিয়মিত অভিনয়শিল্পীরা।