মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত থেকেই দেশের শিল্প-কলকারখানায় ‘আগের মতো’ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী—এমনটাই জানিয়েছেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক। সোমবার সচিবালয়ে ২১টি ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। ফজলুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামীকাল রাত থেকেই ইনশাআল্লাহ আমাদের নতুন করে যে সংকট তৈরি হয়েছে, এর আগের যে অবস্থায় আমরা ছিলাম, সেই অবস্থায় গ্যাস-বিদ্যুতের ওই অবস্থায় ফিরে যেতে পারব। এটা আমাদের মনে হয়, আজকের এই বৈঠকের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর। এর মাধ্যমে আমাদের এই চলমান সংকট শুধু সমাধান হবে না, আগামী দিনে শিল্পের বিকাশে, নতুন বিনিয়োগ বাস্তবায়নে যে গ্যাস-বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে, সেই বর্ধিত চাহিদা কীভাবে মেটানো হবে, সেটারও একটি বিস্তারিত রূপরেখা এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে —বলেও জানান তিনি। ফজলুল হক বলেন, এটা কিন্তু ব্যাপারটা এরকম নয় যে তাঁরা উপস্থাপন করেছেন, আমরা শুধু শুনে শুনে বের হয়ে এসেছি। কারণ উপস্থাপন হয়েছে আধা ঘণ্টা, আমাদের মিটিং কিন্তু পূর্বনির্ধারিত ছিল দুই ঘণ্টা। সেই মিটিং দীর্ঘায়িত হয়েছে তিন ঘণ্টায়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, আজকে এই অভূতপূর্ব আয়োজনের মাধ্যমে মূলত ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিল্পায়নের জন্য যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি রয়েছে, বিশেষভাবে বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইতিমধ্যে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন দিয়েছেন এবং সরকারের দুই বছর, পাঁচ বছর ও ১০ বছর মেয়াদি—অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—যে পরিকল্পনা রয়েছে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ক্ষেত্রে, সেটি সুবিস্তারে উপস্থাপন করা হয়েছে। গ্যাসের ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, আমরা যদি উদাহরণ হিসেবে দেখি গ্যাসের ক্ষেত্রে, আমরা ইতিমধ্যে জানি যে দুটি এফএসআরইউ থাকার কারণে আমাদের একটা ডিপেন্ডেন্স তৈরি হয়েছে এবং তার মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট ছিল। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শুধু সেটি রিপেয়ারই করছে না, সামনের দিনগুলোতে কীভাবে এফএসআরইউর সংখ্যা বাড়ানো যায়, প্রাথমিকভাবে তিনটি এবং তারপর আরও দুটি—অর্থাৎ পাঁচটি করে দেওয়া যায়, সে জন্য একটি কার্যকর লক্ষ্যে কাজ শুরু করা হচ্ছে। আগামী ২০২৮ সাল শুরুর আগেই চেষ্টা করা হচ্ছে তৃতীয় এফএসআরইউটি সম্পৃক্ত করার জন্য, যার মাধ্যমে আমাদের গ্যাসের সমস্যার সমাধান হবে। বৈঠকে এফবিসিসিআই, আইসিসিবি, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএসহ ২১টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টাও উপস্থিত ছিলেন।