২০২৬-২৭ অর্থবছরের তৃতীয় সভায় ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করতে যাচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। আগামী বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
পরিকল্পনা বিভাগের জারি করা নোটিশ অনুযায়ী, অনুমোদনের জন্য নির্ধারিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবহন, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি সম্পদ, ভূমি ব্যবস্থাপনা, রেলপথ, বিদ্যুৎ ও স্থানীয় সরকার খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ।
একনেকের সভায় ভৌত অবকাঠামো বিভাগের আওতায় ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট উন্নয়ন প্রকল্পের লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতাধীন জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ও অনুমোদনের তালিকায় রয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প স্থান পেয়েছে অনুমোদনের তালিকায়। এর একটি হলো বরিশাল সেনানিবাস স্থাপনের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এর বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে।
অন্যটি খুলনা নৌ অঞ্চলে নৌবাহিনীর সদস্যদের জন্য আবাসিক সুবিধাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্পও রয়েছে একনেকের এজেন্ডায়।
নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন ব্যবস্থা চালুর প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত নতুন ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনীও সভায় উঠবে।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তিনটি প্রকল্প রয়েছে তালিকায়। এর মধ্যে রয়েছে মা, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ।
এ ছাড়া যক্ষ্মা, এইচআইভি/এইডস ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং আর্থিক খাত সহায়তা প্রকল্প-২ নিয়েও একনেকে আলোচনা হবে।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ছোট ফেনী ও বামনী নদীর সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন উন্নয়নে মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম অংশ অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীও রয়েছে এজেন্ডায়। প্রকল্পটির আওতায় তিনটি সিটি করপোরেশন, একটি পৌরসভা ও দুটি উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি জরিপ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল নির্ধারিত।