দেশি-বিদেশি পর্যটন ও ভ্রমণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এক প্ল্যাটফর্মে আনতে রাজধানীতে শুরু হচ্ছে ১৩তম এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার (এটিএফ) ২০২৬। আগামী ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) বসবে তিন দিনব্যাপী এ পর্যটন মেলা।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর গুলশানের ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিস্তারিত তুলে ধরেন আয়োজকেরা।
তাঁরা জানান, এবারের আয়োজনে বাংলাদেশসহ ১০টি দেশের ২০০টির বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেবে। প্রায় ৩০০টি বুথে নিজেদের পর্যটন পণ্য ও সেবা তুলে ধরবে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য মেলা উন্মুক্ত থাকবে।
মেলায় হোটেল, রিসোর্ট, এয়ারলাইনস, ক্রুজ কোম্পানি, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, সরকারি পর্যটন সংস্থা এবং বিভিন্ন পর্যটন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ থাকবে। ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও মিশনও এতে যুক্ত হবে।
দর্শনার্থীরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গন্তব্যের পর্যটন পণ্য ও সেবা সম্পর্কে সরাসরি জানতে পারবেন। পাশাপাশি থাকবে বিভিন্ন ভ্রমণ প্যাকেজ ও বিশেষ ছাড়। আসন্ন শীত মৌসুমকে সামনে রেখে মেলা থেকেই বিভিন্ন ট্যুর প্যাকেজ বুকিংয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এবারের মেলায় ‘ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ শোকেজ’, ‘ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম শোকেজ’ এবং ‘বাংলাদেশ ট্যুরিজম ইনভেস্টমেন্ট শোকেজ’ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
এর পাশাপাশি থাকবে বিটুবি সেশন, সেমিনার, পর্যটন গন্তব্য ও পণ্যের উপস্থাপনা, প্যানেল আলোচনা এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং সেশন।
বাংলাদেশের হাওর, সুন্দরবন, নৌ পর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, কমিউনিটি ট্যুরিজম ও পরিবেশ পর্যটনের সম্ভাবনা তুলে ধরার উদ্যোগও থাকছে এবারের মেলায়।
এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ারের চেয়ারম্যান ও পর্যটনবিচিত্রার সম্পাদক মহিউদ্দিন হেলাল বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটন অংশীজনদের মধ্যে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানো এবং পর্যটন পণ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
তার মতে, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদকে কাজে লাগিয়ে পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
মেলায় শিশুদের জন্য থাকবে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে ‘স্কিল প্যাভিলিয়ন’।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন বিভাগের শিক্ষার্থীরা মেলা ঘুরে শিল্পসংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতা অর্জন এবং অ্যাসাইনমেন্ট করার সুযোগ পাবেন।
এ ছাড়া প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাংলাদেশ, নেপাল ও ফিলিপাইনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ দেশি-বিদেশি পর্যটন অংশীজনদের সামনে তুলে ধরা সম্ভব।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহযোগিতায় এবারের মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।