সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দিনাজপুরে বিএডিসি’র সার নিয়ে তুঘলকি কারবার চামড়া, জাহাজ নির্মাণ ও হালকা প্রকৌশলে জার্মান বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ : শিল্পমন্ত্রী ডেঙ্গু নির্মূলে কার্যকর কর্মপরিকল্পনার আহ্বান স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর সন্ত্রাস দমনে প্রচলিত আইনকে আরও শক্তিশালী করা হবে : আইনমন্ত্রী শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতার আহ্বান রাষ্ট্রপতির শিল্প-কারখানায় চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে এশিয়ান ট্যুরিজম ফেয়ার, থাকছে ১০ দেশের ২০০ প্রতিষ্ঠান ইতালি থেকে দেশে ফিরেই বাঁধনের অভিযোগ, ‘আমার টিমই আমাকে ডিজওন করেছে’ একনেকে ১৫ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন প্রস্তাব, তালিকায় মেট্রোরেল থেকে স্বাস্থ্য খাত ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষ

দিনাজপুরে বিএডিসি’র সার নিয়ে তুঘলকি কারবার

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর :
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুরে বিএডিসি’র সার নিয়ে তুঘলকি কান্ড চলছে। একদিকে সারের কৃত্রিম সংকটে দিশেহারা কৃষক। ডিলারের কাছে না মিললেও বেশি টাকা দিলে খুচরা ব্যবসায়ির কাছে ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে সার ডিলারদের গোডাউন থেকেও প্রায়শই অবৈধ মজুত সার জব্দ করা হচ্ছে । বিএডিসি সার দপ্তরের কর্মকর্তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। কেউ কেউ অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ে সাংবাদিক আর গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভয়ে এক প্রকার পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তারা। অন্যদিকে বিএডিসির সরকারি গোড়াউন থেকে সার লোপাটের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। সরকারি গোডাউন থেকে সার লোপাট ও বর্তমান মজুত নিরীক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে তদন্ত কমিটি পাঠালেও তারা অভিযুক্তদের তত্ত্বাবধানে জামাই আদর নিয়ে কর্মস্থলে ফিরেছেন।অভিযুক্তদের সঙ্গে অফিসে খোশগল্প, আপ্যায়ন,রাতে রেস্ট হাউজে রসায়নে মেতে বসে বসে রিপোর্ট তৈরি করেছেন।এনিয়ে সংবাদকর্মীরা অভিযোগ দিলেও কর্ণপাত করেনি তদন্ত কমিটি। কোন প্রতিক্রিয়া জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন তারা। সার নিয়ে রীতিমতো লংকাকান্ড শুরু হয়েছে দিনাজপুরে। অবৈধ মজুদের অভিযোগে দিনাজপুরের বিরলে দিনব্যাপী অভিযানে ১৩৯১ বস্তা সার জব্দ করেছে প্রশাসন। সেইসঙ্গে এক লক্ষ দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। জব্দকৃত সারের বিক্রয়কৃত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮ টায় বিরল উপজেলার চককাঞ্চন মোড়ে পৃথক অভিযানে মেসার্স হাসেম ট্রেডার্স (বিসিআইসি ডিলার) প্রোঃ মোঃ হাসেম এর ভাই মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের গোডাউন থেকে অবৈধভাবে মজুদকৃত ৫১০ বস্তা সার (ডিএপি ১০৩ বস্তা ও এমওপি ৪০৭ বস্তা) প্রশাসন। জাহাঙ্গীর আলমকে চল্লিশ হাজার টাকা অর্থদন্ডাদেশ প্রদান করে,ভ্রাম্যমাণ আদালত। জাহাঙ্গীর আলম এর সার গোডাউনটি সীলগালা করা হয়। ?একইদিন (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিরল উপজেলার ০২ নং ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের বিরল-বোচাগঞ্জ সড়কের পাশে মহাদেবপুর মাছুয়াপাড়া মোড়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রেজাউল ইসলাম মেসার্স শাহির ট্রেডার্স (লাইসেন্স নং ৬০২৪) প্রোঃ মোঃ নাসিম ইকবাল খোকনকে অবৈধভাবে সার মজুদ করার দায়ে ৭৮২ বস্তা সার ( টিএসপি ৪৪৬ বস্তা, ডিএপি ২৭৬ বস্তা, এমওপি ৪৬ বস্তা ও ইউরিয়া ১৪ বস্তা) জব্দ করে পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদন্ডাদেশ প্রদান করেন।
?রাতেই তিনি পার্শ্ববর্তী একই এলাকায় লাইসেন্স বিহীন খুচরা বিক্রেতা মোঃ আলিম এর দোকানে অবৈধভাবে মজুদকৃত ১৭ বস্তা সার (টিএসপি ০৭ বস্তা, এমওপি ০৭ বস্তা ও ডিএপি ০৩ বস্তা) জব্দ করে দুই হাজার টাকা অর্থদন্ডাদেশ প্রদান করেন। ?এছাড়াও উপজেলার ০৪ নং শহরগ্রাম ইউনিয়নের নাড়াবাড়ী বাজারে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মনোয়ার হোসেন মেসার্স নবাব ট্রেডার্স (লাইসেন্স নং ৬০৮৭) প্রোঃ মশিউর রহমান এর দোকানের দুইটি ঘরে নিবন্ধন ব্যতীত ৮২ বস্তা সার ( ডিএপি ৩২ বস্তা, ইউরিয়া ২৫ বস্তা, এমওপি ২৫ বস্তা) জব্দ করে দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। ?নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদ্বয় জব্দকৃত সার সরকারী মূল্যে কৃষকদের নিকট বিক্রয় করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা দেয়ার জন্য বিরল উপজেলা কৃষি অফিসার ও সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি অফিসারকে নির্দেশ দেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, দিনাজপুর জেলায় আমন ও আগাম সব্জি চাষের এই ভরা মৌসুমে ডিলার- অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট, অবৈধ মজুতদারি এবং সরকারি গুদাম থেকে সার লোপাটের কারণে সাধারণ কৃষক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। সার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হওয়ায় আমন ধান, আগাম আলু, ভুট্রা, গম, ডাল, সরিষা, সবজিসহ চলতি রবি মৌসুমের ফসল চাষাবাদে নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছেন কৃষক। অধিক মূল্য দিয়েও সার সময় মতো না পাওয়ায় চাষাবাদে বিঘ্নতা সৃষ্টি হচ্ছে। ডিলাররা বলছেন, এপরিস্থিতি জন্য বিএডিসি’র দিনাজপুর অঞ্চলের সার এর দায়িত্বে নিয়োজিত যুগ্ম পরিচালক মো.জাহাঙ্গীর আলম দায়ি। তার অনিয়ম, দূর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্য এখন ওপেন সিক্রেট। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট এই কর্মকর্তা সরকারি দপ্তরটিকে এখনো আওয়ীলীগের কার্যালয় বানিয়ে রেখেছেন। অফিস কক্ষের বাথরুমের পাশে গড়ে তুলেছেন গোপন কক্ষ।সেখানেই অবৈধ লেনদেন ও বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপ সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কর্মকর্তা এখন যা ইচ্ছে তাই করছেন। ডিলারদের সার সরবরাহে অনিয়ম ও দূর্নীতি বেড়েছে। ইচ্ছে করেই ডিলারদের হয়রানী করছেন, এমন অভিযোগ অনেকের। বিভিন্নভাবে হয়রানির ভয় দেখিয়ে ডিলারের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করে আসছেন। সারের গুদাম গুলো থেকে সার সরবরাহের সময় যুগ্ম পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম তার নির্ধারিত ব্যক্তির মাধ্যমে ডিলারদের কাছ থেকে প্রকার ভেদে বস্তাপ্রতি নির্ধারিত হারে উৎকোচ নিয়ে আসছেন। কোন ডিলার নির্ধারিত পরিমাণ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে (ডিলার) তার নির্ধারিত গোডাউন থেকে না দিয়ে অনেক দূরের গোড়াউন থেকে সার দিচ্ছেন। এতে ডিলারের পরিবহন খবর বেড়ে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে উৎকোচ নিয়ে নিকটতম পছন্দের গোডাউন থেকে সার উত্তোলন করছেন ডিলারেরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দিনাজপুরে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বিএডিসির সার বিক্রির নিবন্ধিত ডিলার ৩০২ জন। আর কৃষি অফিসের নিবন্ধিত খুচরা সার বিক্রেতার সংখ্যা ৪৫৪। নিবন্ধনহীন খুচরা বিক্রেতা আছেন আরও ৭০০ জন। সরকার নির্ধারিত মূল্যে ইউরিয়া ও টিএসপি প্রতি বস্তার মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ১৫০ ও এমওপি ১ হাজার ৫০ টাকা। শর্ত অনুযায়ী, বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা লাভ রেখে কৃষক পর্যায়ে সার বিক্রি করার কথা ডিলারদের; কিন্তু বাস্তবে প্রান্তিক কৃষকেরা অনেক ক্ষেত্রে ডিলারের ঘরে সার পাচ্ছেন না। তাঁদের যেতে হচ্ছে খুচরা দোকানে। সেখানে ১ হাজার ৩৫০ টাকার এক বস্তা সার কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দামে। দিনাজপুরে এবার চলতি রবি মৌসুমে ২ লাখ ৫৮ হাজার ১১৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এছাড়াও অতিরিক্ত ৩ হাজার মেট্রিক টন সার বেশি বরাদ্দ দিয়েছে।
যা গতবছর বরাদ্দ ছিলো ২ লাখ ৫৭ হাজার ১১৫ মেট্রিক টন। এরমধ্যেটিউনেশিয়া-টিএসপি (কালো) ৮৯৮ মে.টন, পটাশ-এমওপি ২ হাজার ১৮৪ মে.টন এবং ডেপ-ডিএপি ১হাজার ৯৮০ মে. টন ও ইউরিয়া ৩ হাজার ৭৫৯ মেট্রিক টন সার এখনো মজুত রয়েছে। জেলার ১০ টি গুদামে মজুদ এসব সার এ অঞ্চলের বিএডিসি’র নিয়োগ করা ৩০০ জন ডিলারের মাধ্যমে কৃষকের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়ার কথা। কিন্ত, ডিলাররা সময় মতো সরবরাহ না পাওয়ায় এসব সার কৃষদের মাঝে পৌঁছে দিতে পারছেন না। ফলে অধিক মূল্য দিয়েও সময় মতো সার না পেয়ে চাষাবাদ করতে পারছেন না কৃষক।
অনেক কৃষক আগাম আলুর বীজ ও সবজি রোপণ করতে না পেরে দুঃচিন্তায় পড়েছেন। সোমবার ( ১৪ সেপ্টেম্বর ) সকালে সরজমিনে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ছেতরা এলাকায় আগাম আলু ও সব্জি চাষে জমি প্রস্তুতকারি কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। কৃষক আবু সোবহান জানালেন, ‘ সার পাওয়া যায় না। কিভাবে হামরা (আমরা) জমিত আবাদ করিমো ? হামার (আমার) কৃষকের অবস্থা এক্কেবারে শেষ! হামাঘরে (আমাদের) বাঁচার দরকার নাই।’ পাশে কৃষক মোস্তাফিজ ক্ষোভের সঙ্গে জানালেন, ‘ শালার কোন সরকারেই ভালো নাহায় (নয়)। হামাঘরে মারি ফেলাছে। কৃষকের কোন দাম নাহি! টাকা দিয়াও (দিয়ে) সার পাওয়া যায় না। হামরা আবাদ করিমো ক্যামন করি? এইবার আড়াই বিঘা মাটিত (জমি) আগাম আলু লাগাবার কাথা (কথা) কিন্তু এখনো এক বিঘা মাটিত আলু ওজিবার (আবাদ) পারো নাই। এই আইজ ( আজ) লাগাবা ধনু (লাগাতে শুরু)। ক্যামন করি- হামরা বাঁচিমো বাহে! দিনাজপুর সদর উপজেলার উলিপুর এলাকার কৃষক সাজেদুর রহমান জানালেন, তিনি আড়াই বিঘা জমিতে ভুট্রা আবাদ করবেন। কিন্তু সারের জন্য এখনো পিছিয়ে আছেন। জমি পড়ে আছে অনাবাদি অবস্থায়। পাশে আগাম সবজি উৎপাদনে জমি প্রস্তুতকারি কৃষক ক্ষিতিশ লাল জানালেন, ‘সার ঠিকমত পাওয়া যায় না বাপু। সার বিনাকরে (না থাকায়) এইবার, আগাম সবজি, ডাইল লাগাবা পারোনাই। জমি এলাও (এখনো) পড়ি আছে। কী করিমো হামরা- টাকা দিয়াও সার মিলেছে নাই!’ খানসামা পাকেরহাট এলাকার কৃষক সাত্তার হোসেন জানালেন,তার জমি আবাদের জন্য যে সার প্রয়োজন তার সিকি পরিমান সার তিনি এখনো সংগ্রহ করতে পারেননি। টাকা দিয়েও তিনি সার পাচ্ছেন না। ফলে তার অধিকাংশ জমি পড়ে আছে অনাবাদি অবস্থায়। সম্প্রতি দিনাজপুরে বিএডিসির সরকারি সার গোডাউন থেকে ৩২৭ দশমিক ৪৫ মেট্রিক টন সার গায়ের হয়ে গেছে। এ অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। কিন্তু ঘটনার নেপথ্যে নায়কেরা রয়েছে এখনো ধোরাছোয়ার বাইরে। কর্তৃপক্ষ বললে অনুমোদন ছাড়াই ওই সার বিক্রি করা হয়েছে দুইজন ডিলারের কাছে। এ অভিযোগে স্টোর কিপার মো: আকতারুল ইসলাম কে আটক করেছে পুলিশ। প্রায় ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের ৩২৭.৪৫ টন সার বিক্রির টাকা কার কাছে আছে তা জানাতে অপারগ কর্তৃপক্ষ। শষ্যের মধ্যে ভুল থাকলে সেই ভুত তাড়াবে কে? এনিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সঠিকভাবে তদন্ত হলে বিএডিসির কয়েকজন কর্মকর্তা ফেসে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
এ ব্যাপারে বিএডিসি দিনাজপুর অঞ্চলের যুগ্মপরিচালক (সার) মো.জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন কিছু জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে বলেন, তার বিরুদ্ধে উপস্থাপিত সব অভিযোগ মিথ্যে। আমার বিরুদ্ধে যা লিখার আছে,লিখেন। আমি যা করি উপর মহলের নির্দেশে করি। অফিস কক্ষের বাথরুমের ভেতরে গোপন কক্ষ এবং সেখানে খাট-পালং ও সোয়া স্থাপনের বিষয়টি আমার নয়,এটা আগের যুগ্ম-পরিচালক শওকত আলী সাহেব করে গেছেন। আমি উপভোগ করছি মাত্র।’ দিনাজপুরে কৃষকের জন্য বরাদ্দ সার বাজারে না দিয়ে গুদামে মজুত করে রাখার অভিযোগ উঠছে অনেক নিবন্ধিত সার ডিলারের বিরুদ্ধে। কেউ মুরগির বিষ্ঠার বস্তার সঙ্গে, কেউ খড়ের গাদায় লুকিয়ে রেখেছেন সার। এমনকি সরকারি গুদাম থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া বিপুল পরিমাণ সার বিক্রির অভিযোগে জেলহাজতে গেছেন খোদ গুদামরক্ষকসহ ডিলারের কয়েকজন প্রতিনিধি। সম্প্রতি দিনাজপুরের কয়েকটি উপজেলায় জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা ২০টির বেশি অভিযান চালিয়েছেন। এ সব অভিযানে ৩২৭ মেট্রিক টন সার গুদাম থেকে সরিয়ে নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। জব্দ করা হয়েছে প্রায় ৪৫০ মেট্রিক টন সার। ভ্রাম্যমাণ আদালত সাড়ে চার লাখ টাকা জরিমানা এবং বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন ছয়জনকে। তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) গুদামরক্ষক আকতারুল ইসলামও (৩৫) রয়েছেন। এসব অভিযানের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, সরকারি বা বরাদ্দ করা সার নির্ধারিত ব্যবস্থাপনার বাইরে নিয়ে গুদামজাত করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কোনো কোনো ডিলার কৃষকদের কাছে সরবরাহ কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন। পরে চাহিদার সুযোগ নিয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। আবার বেশি লাভের আশায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ফড়িয়াদের কাছেও বিক্রি করছেন কেউ কেউ। সেই সার হাতবদল হয়ে কৃষক পর্যায়ে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। দিনাজপুর শহরের পুলহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পরিত্যক্ত হাস্কিং মিলের গুদাম থেকে ২১৭ বস্তা সার জব্দ করা হয়। জব্দ করা সারের মালিক হিসেবে মনোহর নামের এক ব্যক্তির নাম আসে। তিনি দাবি করেন, সারগুলো কাহারোল উপজেলার সোনালী ট্রেডার্সের মালিক নাঈমের। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে অবৈধভাবে সার মজুতের কথা স্বীকার করেন মনোহর। তিনি জানান, কয়েকজন ডিলারের কাছ থেকে তিনি এই সার কিনেছেন। পরে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬–এর ১২(৩) ধারায় তাঁকে ১ মাস ১৫ দিনের কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে ২৭ আগস্ট রাত ১০টায় বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের কবিরাজহাট এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে বিসিআইসি লাইসেন্সধারী ডিলার নওশাদ ট্রেডার্স ও জনতা হাসকিং মিলের অবৈধ চাউল মিল ও ভুট্টা গুদাম হতে ১ হাজার ৪৯৩ বস্তা টিএসপি, ১৮১ বস্তা ডিএপি এবং ২১৬ বস্তা এমওপি সারসহ মোট ১ হাজার ৮৯০ বস্তা বরাদ্দ বহির্ভূত সার জব্দ করে।
অভিযান চলাকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমা খাতুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জনতা অটো রাইস মিলের ম্যানেজার কাজী ফয়সাল-কে ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এর আহে ২৫ আগষ্ট রাতে বীরগঞ্জ উপজেলার কবিরাজহাটে বিএডিসি নিবন্ধিত কৃষি বীজঘর গোডাউনে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে গোডাউন থেকে অবৈধ মজুদকৃত ৪৫০ বস্তা এমওপি সার জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে গোডাউনের ম্যানেজার মো. জনি ইসলাম-কে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা হয়।
সার সংকট বিষয়ে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক এবং জেলা সার বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব আফজাল হোসেন বলেন, ‘এজেলায় সারের কোন সংকট নেই।গত বছরের তুলনায় এবার এক হাজার টন সারের বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও তিন হাজার মেট্রিক টন সার বেশি বরাদ্দ এসেছে। আমরা কৃষককে জৈব সার ব্যবহারের পাশাপাশি মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগের পরামর্শ দিচ্ছি এবং কৃষকের জন্য বরাদ্দ করা সার নির্ধারিত ডিলার ও অনুমোদিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কৃষকের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে কাজ করছি।’

এ বিভাগের আরো সংবাদ

আজকের নামাজের সময়সুচী

  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩০ পূর্বাহ্ণ
  • ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
  • ১৬:২৩ অপরাহ্ণ
  • ১৮:১১ অপরাহ্ণ
  • ১৯:২৫ অপরাহ্ণ
  • ৫:৪২ পূর্বাহ্ণ
©2026 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102