বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি এবার তৃতীয় একটি বিদেশি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে দেশের স্কুলশিক্ষায়। ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা বইয়ে যুক্ত হচ্ছে ‘তৃতীয় ভাষা’ নামে নতুন একটি অধ্যায়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী দক্ষতা ও শেখার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে ‘কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’ নামে আরও দুটি বই।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, নতুন উদ্যোগে শুধু ভাষা শেখার বিষয়টিই গুরুত্ব পাচ্ছে না; এর সঙ্গে উচ্চশিক্ষা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক শ্রমবাজারের সম্ভাবনাকেও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
নতুন পাঠে বাংলা ভাষাকে মাতৃভাষা বা প্রথম ভাষা এবং ইংরেজিকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এর বাইরে শিক্ষার্থীরা যে বিদেশি ভাষা শিখবে, সেটিকে ‘তৃতীয় ভাষা’ হিসেবে তুলে ধরা হবে।
এনসিটিবির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান বিশ্বে একজন মানুষের শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা কিংবা পেশাগত যোগাযোগ আর শুধু নিজ দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আন্তর্জাতিক পরিসরে যোগাযোগের প্রয়োজন বাড়ছে। সেখানে ইংরেজি গুরুত্বপূর্ণ হলেও সব পরিস্থিতিতে শুধু ইংরেজি যথেষ্ট নাও হতে পারে।
বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট দেশের শিক্ষা, চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হলে ওই দেশের স্থানীয় ভাষা জানা শিক্ষার্থীদের বাড়তি সক্ষমতা দিতে পারে। এই বাস্তবতা থেকেই পাঠ্যক্রমে তৃতীয় ভাষার ধারণা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ষষ্ঠ শ্রেণির ‘তৃতীয় ভাষা’ অধ্যায়ে বিদেশি ভাষা শেখাকে শুধু একটি অতিরিক্ত দক্ষতা হিসেবে দেখানো হচ্ছে না। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং ব্যক্তিগত বিকাশের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে।
পাঠ্যক্রম প্রণয়নের সঙ্গে যুক্তরা মনে করছেন, ছোটবেলা থেকে নতুন ভাষার সঙ্গে পরিচিত হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি বৈদেশিক শ্রমবাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ভাষাজ্ঞান কাজে লাগার সুযোগ রয়েছে।
তৃতীয় ভাষার পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্ত হচ্ছে ‘কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’ নামে আরও দুটি বই।
নতুন বিষয়গুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী দক্ষতা অর্জন এবং বাস্তবজীবনভিত্তিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তোলার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
তবে এই দুটি বিষয়ের মূল্যায়নে পাওয়া নম্বর শিক্ষার্থীদের মূল ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত হবে না। অন্যদিকে বিষয় দুটিতে উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক রাখা হবে।
নতুন উদ্যোগের মধ্য দিয়ে শুধু পরীক্ষার ফলাফল বা প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান অর্জনের বাইরে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবন ও কর্মক্ষেতরের জন্য প্রস্তুত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
একদিকে নতুন ভাষা শেখার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সুযোগ বাড়ানোর চেষ্টা, অন্যদিকে কারিগরি ও আনন্দভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে বাস্তব দক্ষতা তৈরির উদ্যোগ—এই দুই ধারাকে পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বহুমুখী সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এনসিটিবির সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বায়নের পরিবর্তিত বাস্তবতায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শুধু দেশীয় পরিসরের জন্য নয়, আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও কর্মবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলার বিষয়টি এখন শিক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা।