চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন প্রক্রিয়ায় আবেদন করেনি ৩ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। মোট ১১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৫ জন পাস করলেও একাদশে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে ৮ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৮ জন। ফলে প্রায় ৩ লাখ ৯ হাজার ৯৭৭ জন শিক্ষার্থী এই ভর্তি প্রক্রিয়ায় আবেদন করেনি।
পাস করা শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যার হিসাবে একাদশে আবেদন না করা শিক্ষার্থীর হার প্রায় ২৭ শতাংশ। অর্থাৎ, এসএসসি ও সমমান পাস করা প্রতি চারজন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় একজন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির অনলাইন আবেদনে অংশ নেয়নি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীও রয়েছে।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ৪৬৩ জন। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৩৫ জন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেনি। অর্থাৎ, জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৯ দশমিক ৭ শতাংশ এই অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি।
তবে এসব শিক্ষার্থী কেন একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেনি, সে বিষয়ে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
ভর্তি প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপে ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫৫ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। এসব শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন কলেজে মোট ৪৮ লাখ ৮৬ হাজার ২১৫টি পছন্দের আবেদন জমা পড়ে।
প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জন শিক্ষার্থীর কলেজ নির্বাচন নিশ্চিত হয়েছে।
এদিকে দ্বিতীয় ধাপের মাইগ্রেশন প্রক্রিয়ায় ৫৬ হাজার ৮০৪ জন শিক্ষার্থী পছন্দক্রম অনুযায়ী অন্য কলেজে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
আবেদন করার পরও দ্বিতীয় ধাপ শেষে ১৪ হাজার ১৪ জন শিক্ষার্থী কোনো কলেজে নির্বাচিত হয়নি। তাদের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২০৫ জন।
ফলে পরবর্তী ধাপের আবেদন ও মাইগ্রেশনে এসব শিক্ষার্থীর একটি অংশ কলেজে ভর্তির সুযোগ পেতে পারে।
দেশের ৮ হাজার ১৮১টি কলেজ ও মাদরাসায় একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন রয়েছে ২৬ লাখ ১ হাজার ৭৭৯টি। এর বিপরীতে প্রথম দুই ধাপ শেষে কলেজে নির্বাচন নিশ্চিত হয়েছে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জনের।
অর্থাৎ, বর্তমান হিসাবে একাদশ শ্রেণিতে বিপুলসংখ্যক আসন এখনো খালি রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত এসব আসনের কতটি পূরণ হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী ধাপের আবেদন, মাইগ্রেশন এবং নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি সম্পন্ন করার ওপর।