চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণের পর দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ৩ হাজার ৬৬৬ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৭৪০ জন।
পুনর্নিরীক্ষণের ফলে মোট ২৫ হাজার ৬২০ জন শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর ৪৯ হাজার ১৪৩টি বিষয়ে নম্বর পরিবর্তনের তথ্য পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে আবেদন করার সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়েও ফল জানানো হয়েছে।
পুনর্নিরীক্ষণের ফল জানতে নির্ধারিত ওয়েবসাইট rescrutiny.eduboardresults.gov.bd-এ প্রবেশ করা যাবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির অধীনে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ—এই নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পুনর্নিরীক্ষণের পর সবচেয়ে বেশি ফল পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গ্রেড পরিবর্তন হওয়া ২৫ হাজার ৬২০ শিক্ষার্থীর মধ্যে অনেকেই ফেল থেকে পাস করেছেন, আবার অনেকে আগের ফলাফলের চেয়ে ভালো গ্রেড পেয়েছেন। নতুন করে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
চলতি বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন মোট ১৪ লাখ ৪ হাজার ৫৩৯ জন পরীক্ষার্থী।
এর মধ্যে ৩ লাখ ৪১ হাজার ৬২৫ জন শিক্ষার্থী খাতা পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন। তারা মোট ৯ লাখ ১৮ হাজার ৬৫০টি বিষয়ে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছিলেন।
পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনে একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্রের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাওয়ায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ও আবেদনের সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে রেকর্ডসংখ্যক আবেদন জমা পড়ে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেন।
সব মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা হয়।
অর্থাৎ, ১১টি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন জমা পড়েছিল।
গত ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার মূল ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। এর ৩১ দিন পর বৃহস্পতিবার পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হলো।
পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন গ্রহণের শেষ সময় ছিল ১৭ আগস্ট রাত। সে হিসাবে আবেদন শেষ হওয়ার ২৪ দিন পর প্রকাশ করা হলো সংশোধিত ফলাফল।
পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে ফল পরিবর্তনের সুযোগ থাকায় মূল ফল প্রকাশের পর যেসব শিক্ষার্থী তাদের নম্বর বা গ্রেড নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন, তাদের অনেকের ফলাফলে এবার পরিবর্তন এসেছে।