ফিলিপাইনের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পালাওয়ান দ্বীপের কাছে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৮৭ জন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সমুদ্রে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ফিলিপাইনের কোস্টগার্ড।
কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের সময় এম/ভি জুন অ্যাস্টার নামের ফেরিটি উপকূল থেকে প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ফেরিটিতে মোট ১৩৪ জন ছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে ফেরিটিকে আগুনে পুরোপুরি গ্রাস হতে দেখা গেছে। কালো ধোঁয়ার সঙ্গে ফেরিটির বিভিন্ন অংশ থেকে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
ফিলিপাইনের কোস্টগার্ডের ক্যাপ্টেন নোয়েমি কায়াবায়াব এএফপিকে জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় উদ্ধারকারী দল।
তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পর ফেরিটি থেকে ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচজনের মরদেহ পাওয়া গেছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৩৮ জন যাত্রী এবং চারজন ফেরির ক্রু সদস্য।
কোস্টগার্ড কর্মকর্তা নোয়েমি কায়াবায়াব জানান, ফেরিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক যাত্রী আতঙ্কিত হয়ে সাগরে ঝাঁপ দেন। এ কারণেই বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিখোঁজ ৮৭ জনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। তাদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাও কাজ করছে।
ফেরিটিতে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা।
ক্যাপ্টেন নোয়েমি কায়াবায়াব বলেন, উদ্ধার হওয়া যাত্রী ও ক্রুদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হলে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
বাণিজ্যিক জাহাজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, এম/ভি জুন অ্যাস্টার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা থেকে পালাওয়ানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল।
ফেরিটিতে আগুন লাগার সময় সেটি পালাওয়ানের কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায় অবস্থান করছিল। দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।