বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বক্তব্য দেবেন তিনি। জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। তাঁর বক্তব্যে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর বৈষম্য, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। শান্তি, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের আহ্বানও জানান তিনি।
এর ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রথম ভাষণ দেন তারেক রহমানের মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়েও জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে বক্তব্য দেন তিনি। এর মধ্যে ছিল ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্মারকসভা, ২০০২ সালের শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে সাধারণ পরিষদের ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভা। জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া।
এবার একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর ভাষণে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও উন্নয়নসংক্রান্ত অগ্রাধিকার এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরার কথা জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, গণতান্ত্রিক রূপান্তর, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচন, দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়নের প্রসঙ্গও থাকবে। রোহিঙ্গা সংকটকে সফরের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন বলে সরকারি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাঁর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলেও জানিয়েছেন শামা।
এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য আরেকটি দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২ জুন ২০২৬-এর নির্বাচনে তিনি এ পদে নির্বাচিত হন এবং ৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় অধিবেশনের তৃতীয় দিনের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
জিয়াউর রহমানের ১৯৮০ সালের ভাষণ থেকে শুরু করে খালেদা জিয়ার একাধিকবার অংশগ্রহণের পর এবার তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততায় আরেকটি অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে।