ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে একদিনে ৭৮১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ১০টি ছোট নৌকায় করে তারা ব্রিটেনে প্রবেশ করেন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ ও কোস্টগার্ড।
যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত এক দিনে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর এটিই সর্বোচ্চ সংখ্যা। এর আগে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর একদিনে ৮০৩ জন যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছিলেন।
তবে সামগ্রিক হিসাবে গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো মানুষের সংখ্যা কমেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ১৮ হাজার ৫৫৬ জন এই পথে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছেন। ২০২৫ সালের একই ধরনের হিসাবে সংখ্যা ছিল ৩২ হাজার ১৮৮। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আগমন কমেছে প্রায় ৪২ শতাংশ।
ব্রিটিশ কোস্টগার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বরের আগে ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর ফ্রান্সের উপকূল থেকে তিনটি ছোট নৌকায় প্রায় ১৫০ জন ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেন। এর আগে টানা পাঁচ দিন কোনো ছোট নৌকা এই পথে যুক্তরাজ্যের দিকে আসেনি।
ব্রিটিশ সরকার বলছে, ছোট নৌকা ও রাবারের ডিঙ্গি ব্যবহার করে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে চলতি বছরে অগ্রগতি হয়েছে। তবে এ ধরনের নৌযাত্রা পুরোপুরি বন্ধ করতে আরও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলেও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর হিসাবে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে এক দিনে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ২০২২ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। সেদিন ১ হাজার ৩০৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছোট নৌকায় করে ব্রিটেনে পৌঁছেছিলেন।
ইংলিশ চ্যানেল বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথ। আবহাওয়া তুলনামূলক উষ্ণ এবং সমুদ্র শান্ত থাকলে ছোট নৌকায় এই পথে যাত্রার প্রবণতা বেড়ে যায়। সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়েই এ ধরনের আগমনের সংখ্যা বেশি দেখা যায়।
ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির উপনেতা লুসি পাওয়েল বিবিসি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে আসার প্রবণতা কমাতে সরকার অতিরিক্ত জনবল ও সম্পদ ব্যবহারের পাশাপাশি নতুন আইন প্রণয়নসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ছোট নৌকায় আসা মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বিবিসি রেডিও কেন্টকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে পাওয়েল বলেন, ছোট নৌকায় মানুষের আগমন তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার কোনো উপায় থাকলে সরকার সেটিই করত। জনগণ এই সমস্যার দ্রুত সমাধান চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে একাধিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।