রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হামলার পেছনে থাকা পরিকল্পনাকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. ওহাব মিনার এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এসব দাবি জানান।
বিবৃতিতে তারা বলেন, একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি নয়; এর সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগের সক্ষমতার বিষয়টিও জড়িত। তাদের ভাষ্য, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় রাতে বিপুলসংখ্যক মানুষ একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা চালালেও তা ঠেকাতে না পারা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
এবি পার্টির নেতারা জানান, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তারা বলেন, হামলার সময় সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার ও গুরুত্বপূর্ণ নথি, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং নগদ অর্থ লুট করা হয়েছে। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্থাপনাটিও ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, কোনো জমি নিয়ে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধ দাবি থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য আদালত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাসহ আইনানুগ পথ রয়েছে। জমির মালিকানা কিংবা লিজসংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কোনো পক্ষের আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট বা দখলের চেষ্টা কোনোভাবেই আইনসম্মত হতে পারে না বলে উল্লেখ করেন তারা।
ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে এবি পার্টির নেতারা বলেন, গণমাধ্যমে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তি ও স্থানীয় নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানান তারা।
বিবৃতিতে ‘মব কালচার’ নিয়েও সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানানো হয়। এবি পার্টির নেতারা বলেন, সরকার যদি দেশে মব সংস্কৃতি বন্ধের কথা বলে থাকে, তাহলে মিরপুরের ঘটনাতেও তার কার্যকর প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। তাদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শুধু বক্তব্য নয়, বাস্তব পদক্ষেপও জরুরি।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলায় জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার, হামলার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষকদের তদন্তের আওতায় আনা এবং লুট হওয়া সরকারি টিকা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নথিপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে দলটি।
এ ছাড়া হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে। জমি বা লিজসংক্রান্ত বিরোধ থাকলে তা আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা, মাতৃসেবা, পরিবার পরিকল্পনা ও টিকাদান কার্যক্রম দ্রুত চালুর দাবিও জানিয়েছে এবি পার্টি।
অধ্যাপক ওহাব মিনার ও ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, আইন অমান্য করে দলবল নিয়ে কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা বা সরকারি স্বাস্থ্যসামগ্রী লুটের ঘটনা মেনে নেওয়া উচিত নয়। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় কার্যকর আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগের সক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বিবৃতির শেষে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের চিকিৎসক, কর্মী, সেবাগ্রহীতা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সংহতি জানিয়ে দ্রুত কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।