চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি কোম্পানির কাছে ১৫ বছরের জন্য কনসেশনে দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা ও করিডোরবিরোধী আন্দোলন। দাবি মেনে না নিলে বন্দর অভিমুখে লংমার্চসহ কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়ে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা এ হুঁশিয়ারি দেন। এর আগে আন্দোলনকারীরা সেখানে মশাল মিছিল করেন।
সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি মাহি শাহারিয়া রেজা বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের আগে ২৫ নভেম্বর তারেক রহমান বলেছিলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের কৌশলগত সম্পদ এবং জনগণের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া এটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া যায় না। তবে ক্ষমতা গ্রহণের সাত মাসের মধ্যে জনগণের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই এনসিটি ও সিসিটি ১৫ বছরের জন্য বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত এবং বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। গত অর্থবছরে টার্মিনালটি এক হাজার কোটি টাকার বেশি লাভ করেছে এবং এর সক্ষমতার প্রায় শতভাগ ব্যবহার হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মাহি শাহারিয়া রেজার দাবি, লাভজনক একটি টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়া হলে অর্থনৈতিক স্বার্থের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও কৌশলগত নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিটির পাশে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটি থাকায় বিদেশি অপারেটর যুক্ত হলে সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এনসিটি থেকে পাওয়া আয়ের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অবকাঠামো ও টার্মিনাল নির্মাণে অর্থায়ন করা হয়েছে। ফলে লাভজনক এই প্রতিষ্ঠান বিদেশিদের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ কেন নেওয়া হচ্ছে, সরকারকে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।
সমাবেশে বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, ১ অক্টোবর মন্ত্রিসভা এনসিটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত বছর এনসিটি থেকে প্রায় ৬ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা এবং তার আগের বছর ৫ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা রাজস্ব এসেছে।
সেকেন্দার হায়াৎ বলেন, বন্দরের পরিচালনায় অপারেটর নিয়োগ বা জয়েন্ট ভেঞ্চারসহ বিভিন্ন বিকল্প মডেল থাকলেও কনসেশন পদ্ধতি দেশের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তার দাবি, বিদেশি কোম্পানিকে কনসেশনে দেওয়া হলে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও কৌশলগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে।
তিনি আরও দাবি করেন, টার্মিনাল থেকে বছরে প্রায় ১৪৫ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব এলেও প্রস্তাবিত কনসেশন চুক্তিতে বাংলাদেশ প্রায় ২৩ মিলিয়ন ডলার পাবে। এ ব্যবস্থার বিরোধিতা করে তিনি সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, এনসিটি ও সিসিটি কনসেশনে দেওয়ার উদ্যোগ বাতিল না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। প্রয়োজনে সারা দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে বন্দর অভিমুখে লংমার্চসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়।