বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগের জন্য যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বারিধারায় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বাসভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কারণে বাংলাদেশে পর্যটন খাতের সম্ভাবনা অনেক বিস্তৃত। সুন্দরবন, কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, চট্টগ্রামের পাহাড় ও হ্রদ এবং সিলেটের চা-বাগানের পাশাপাশি দেশের মানুষের আতিথেয়তাও বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার বড় সম্পদ।
তিনি বলেন, দেশের পর্যটন সম্ভাবনা শুধু প্রচলিত কয়েকটি দর্শনীয় স্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে একটি পরিকল্পিত ও টেকসই পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান মন্ত্রী। অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যেও বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বিনিয়োগের পরিবেশ সহজ করার বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতে বিনিয়োগের জন্য তাদের স্বাগত জানানো হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ, অনুকূল ও সম্ভাবনাময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
পর্যটন শিল্পের বিকাশের সঙ্গে বিমান চলাচল খাতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য বোয়িং ও এয়ারবাসের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি বহর গড়ে তোলার কাজ চলছে।
একই সঙ্গে দেশের এয়ার কার্গো খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনের সহযোগিতা চান তিনি।
মন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালের জুন থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কার্গো ও ডাককে ‘হাই রিস্ক কার্গো অ্যান্ড মেইল’ হিসেবে বিবেচনা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগ নিরসনে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, গত ১৭ জুলাই যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্টের মূল্যায়নে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৮ শতাংশ এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ৯৪ শতাংশ স্কোর অর্জন করেছে। এ পরিস্থিতিতে কার্গো ও ডাক পরিবহনে বিদ্যমান বিধিনিষেধ দ্রুত প্রত্যাহারে ব্রিটিশ হাইকমিশনের সহযোগিতা প্রয়োজন।
যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে দেশটির জনগণের সমর্থন ছিল। ভবিষ্যতে পর্যটন শিল্পের বিকাশেও যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, দুই দেশের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে পর্যটন, বিমান চলাচল ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।