প্যারিসের আলোঝলমলে ফ্যাশন মঞ্চে ফের মুগ্ধতা ছড়ালেন বলিউড তারকা ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। আন্তর্জাতিক তারকাদের ভিড়ে গ্র্যান্ড ফিনালেতে তার র্যাম্পে হাঁটা যেন পুরো আয়োজনেই যোগ করেছিল আলাদা এক আবহ। আইফেল টাওয়ার ও একোল মিলিটেয়ারের দৃষ্টিনন্দন পটভূমিতে তার উপস্থিতি নজর কেড়েছে ফ্যাশনপ্রেমীদের।
সেলিব্রিটি স্টাইলিস্ট মোহিত রাইয়ের পরিকল্পনায় ঐশ্বরিয়া পরেছিলেন ‘ইয়ারা শুমেকার’-এর শরৎ-শীত ২০২৬-২৭ কালেকশনের বিশেষভাবে তৈরি একটি ভেলভেট গাউন। থ্রি-ডি ফ্রিঞ্জ এমব্রয়ডারি, ক্রিস্টালখচিত কেপ, গভীর নেকলাইন ও ফিটেড সিলুয়েটের পোশাকটিতে ফুটে উঠেছিল আভিজাত্য ও গ্ল্যামারের মিশেল।
গাউনের সঙ্গে থাকা মুক্তো ও ক্রিস্টালের বর্ডার দেওয়া কেপটি তার সাজে যোগ করেছিল রাজকীয় মাত্রা। তবে পোশাকের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে ঐশ্বরিয়ার চুলের নতুন রং।
প্যারিসের এই ফ্যাশন আয়োজনে প্রথমবার প্রকাশ্যে নিজের নতুন ‘ফায়ারি রেড’ হেয়ার কালার দেখালেন ঐশ্বরিয়া। সাইড পার্টিং করে নরম ঢেউ খেলানো চুলে লালচে এই রং তাকে দিয়েছে একেবারেই ভিন্ন এক লুক।
এর সঙ্গে ছিল ঝলমলে ডায়মন্ড ক্রাউন, মানানসই আংটি, গাঢ় লাল লিপস্টিক ও শার্প উইংড আইলাইনার। সব মিলিয়ে তার সাজে ফুটে উঠেছে রহস্যময় ও রাজকীয় এক আবহ। অনেকে তার এই লুককে রূপকথার চরিত্র ‘মেলফিসেন্ট’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন।
র্যাম্পের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঐশ্বরিয়ার নতুন লুক নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। ভক্তদের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন পেজও তার সাজের প্রশংসা করেছে।
আন্তর্জাতিক ফ্যাশন পেজ ‘ডায়েট সব্য’ ঐশ্বরিয়ার ছবি প্রকাশ করে তার দীর্ঘদিনের তারকা-আবেদন ও সৌন্দর্যের প্রশংসা করেছে। পোস্টটিতে ১৯৯৪ সালে বিশ্বসুন্দরীর মুকুট জয়ের সময় থেকে এখন পর্যন্ত তার জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়।
ভক্তদের মন্তব্যেও ছিল উচ্ছ্বাস। কেউ লিখেছেন, ‘তারা যতই চেষ্টা করুক, আপনাকে অপছন্দ করা সম্ভব নয়।’ অন্য একজনের মন্তব্য, ‘এটা ঐশ্বরিয়ার দুনিয়া, আমরা শুধু সেখানে বাস করছি।’
ঐশ্বরিয়ার ব্যক্তিজীবন নিয়েও মজার মন্তব্য করেছেন অনেকে। কেউ কেউ জয়া বচ্চনকে টেনে শাশুড়ি-বউয়ের সম্পর্ক নিয়েও রসিকতা করেছেন।
সব আলোচনা মিলিয়ে প্যারিসের এই ফ্যাশন আয়োজনে ঐশ্বরিয়ার পোশাক, মেকআপ ও বিশেষ করে ‘ফায়ারি রেড’ চুলের লুকই এখন ভক্ত ও ফ্যাশন অনুরাগীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।