উপকূলীয় এলাকার স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, অধিকার ও আইনি সহায়তা সম্পর্কে সচেতন করতে কক্সবাজারে তিন দিনব্যাপী বিশেষ প্রচারণা শুরু করেছে জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট। ইউনিসেফের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত ‘স্বপ্ন সারথি–সি-শোর গার্লস প্রজেক্ট’-এর আওতায় এ কর্মসূচি ৩০ আগস্ট শুরু হয়েছে, চলবে ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজারের আবুল কাশেম হাই স্কুল, কুরুলিয়া হাই স্কুল ও খুরুশকুল হাই স্কুলে ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক সেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিদিন দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার এসব আয়োজনে তিন বিদ্যালয়ের মোট ৭৫০ শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে।
আয়োজকদের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক কিশোর-কিশোরী সংকটের সময় যথাযথ সেবা নিতে পারে না। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কারিগরি প্রশিক্ষণ কিংবা আইনি সহায়তা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোথায় এবং কীভাবে সহযোগিতা পাওয়া যায়, সে বিষয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই।
এই তথ্যঘাটতি দূর করতে প্রচারণার সেশনগুলোতে শিশু সুরক্ষা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, সেফগার্ডিং এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের যুববান্ধব সেবা পাওয়ার পদ্ধতি তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবার ‘সার্ভিস ডিরেক্টরি’।
প্রচারণায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ হেল্পলাইন ১০৯ এবং শিশু সুরক্ষা হেল্পলাইন ১০৯৮ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত জানানো হচ্ছে। শুধু তথ্য দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে কীভাবে এসব সেবায় যোগাযোগ করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কোথায় রেফার করা যায়, সে বিষয়েও ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে কর্মসূচিতে রাখা হয়েছে শিশু সুরক্ষাবিষয়ক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কুইজ এবং উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও প্রশ্ন তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।
‘স্বপ্ন সারথি–সি-শোর গার্লস প্রজেক্ট’-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন বলেন, “সেবা ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে আমরা যে তথ্য ও সুপারিশ পেয়েছি, তার প্রকৃত মূল্য তখনই তৈরি হবে যখন কিশোর-কিশোরীরা সেগুলো বাস্তবে ব্যবহার করতে পারবে।”
আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু কোথায় কী সেবা পাওয়া যায়, তা জানলেই হবে না। প্রয়োজনের সময় কীভাবে সেই সেবার কাছে যেতে হবে এবং নিজের অধিকার কী, সেটিও জানা জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সচেতন করার পাশাপাশি তাদের নিরাপদ, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আসফিকা ইসলাম বলে, “আমরা অনেক সময় কোনো সমস্যায় পড়লে কোথায় সাহায্য চাইতে হবে তা জানি না। আজকের সেশন থেকে হেল্পলাইন নম্বর, বিভিন্ন সেবা কোথায় পাওয়া যায় এবং নিজের ও অন্যের অধিকার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছি। এখন মনে হচ্ছে, প্রয়োজনে আমি নিজেও সঠিক জায়গায় সাহায্য চাইতে পারব এবং অন্যদেরও পথ দেখাতে পারব।”
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অধিকার ও প্রয়োজনীয় সেবা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাবে। পাশাপাশি সংকটের সময়ে ভয় বা দ্বিধায় না থেকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে সহায়তা চাওয়ার সক্ষমতা তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোর কার্যকর যোগাযোগও আরও শক্তিশালী হবে।
‘স্বপ্ন সারথি–সি-শোর গার্লস প্রজেক্ট’ উপকূলীয় কিশোরীদের শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও নিরাপত্তাসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের ক্ষমতায়নে কাজ করছে। প্রকল্পের আওতায় তৈরি ‘সার্ভিস ডিরেক্টরি’ শিক্ষার্থীদের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সেবা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও দিকনির্দেশনা পেতে সহায়তা করছে।