শিশু-কিশোরদের কল্পনাশক্তি, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা ও শিল্পচর্চার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করেছে শিশুদের পত্রিকা দোলন। চিত্রশিল্প ও মোবাইল ফটোগ্রাফিকে একসঙ্গে রেখে আয়োজিত ‘দোলন ক্রিয়েটিভ ভিশন ২০২৬’ কর্মশালায় ৫ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
আগামী ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার বাংলা একাডেমিতে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে কর্মশালাটি। দুই দিনের আয়োজনে প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফটোগ্রাফি এবং দ্বিতীয় দিন চিত্রশিল্পের প্রাথমিক বিষয়গুলো শেখানো হবে।
আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মশালাটি শুধু ছবি আঁকা কিংবা মোবাইল দিয়ে ছবি তোলার কৌশলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। চারপাশের পরিবেশকে নতুনভাবে দেখার ও পর্যবেক্ষণের পদ্ধতি, উপযুক্ত বিষয় নির্বাচন, ফ্রেমিং, কম্পোজিশন, আলো-ছায়ার ব্যবহার, রং, আকার, গভীরতা এবং দৃষ্টিভঙ্গির মতো সৃজনশীল বিষয় নিয়েও শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হবে। পাশাপাশি মোবাইল ক্যামেরাকে কীভাবে সৃজনশীল কাজে কাজে লাগানো যায়, থাকবে সেই বিষয়ে ব্যবহারিক শেখার সুযোগ।
কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে থাকবেন আলোকচিত্র শিল্পী ও মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইনার অনুপ রায় এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চিত্রাংকন ও সৃজন প্রশিক্ষক তানজিমা তাবাচ্ছুম এশা।
কর্মশালার পর শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে বিশেষ আয়োজন। আগামী ১০ অক্টোবর ঢাকার লালবাগ কেল্লায় অনুষ্ঠিত হবে ‘আউটডোর ক্রিয়েটিভ ডে’।
এদিন দলভিত্তিকভাবে শিক্ষার্থীরা লালবাগ কেল্লার স্থাপত্য, প্রকৃতি, বিভিন্ন দৃশ্য এবং আলো-ছায়ার বৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করবে। এরপর মোবাইল ফোনে নিজেদের পছন্দের দৃশ্য ধারণ করবে তারা।
পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীরা নিজের তোলা ছবিকে ভিত্তি করে বাসায় একটি চিত্রকর্ম তৈরি করবে। সেই শিল্পকর্ম পরে দোলনের কাছে জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
আয়োজকদের ভাষ্য, ছবি তোলার পাশাপাশি ছবি দেখার অভ্যাসও শিশুদের সৃজনশীল বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সময়ে শিশুদের হাতে থাকা মোবাইল ফোনকে পুরোপুরি দূরে রাখা বাস্তবসম্মত নয়। তাই মোবাইলকে কেবল বিনোদনের উপকরণ হিসেবে ব্যবহারের পরিবর্তে এর ইতিবাচক ও সৃজনশীল ব্যবহার শেখানোর লক্ষ্যেই এ আয়োজন।
দোলন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক কামাল মুস্তাফা বলেন, শিশুদের আনন্দের মধ্য দিয়ে শেখার সুযোগ তৈরি করাই তাঁদের প্রধান উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, বর্তমানে শিশুদের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারের প্রবণতা অনেক বেশি। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তাদের পুরোপুরি মোবাইল থেকে দূরে রাখা সম্ভব নয়। তাই তারা যে মোবাইল ব্যবহার করছে, সেটিকেই সৃজনশীলতার চর্চায় কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিতে চান তারা—যাতে শিশুরা মোবাইল দিয়ে ছবি তোলে, ছবি দেখে এবং সেই ছবি থেকে আঁকার অনুপ্রেরণা নেয়।
‘দোলন ক্রিয়েটিভ ভিশন ২০২৬’ এর মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সঙ্গে সৃজনশীলতা ও শিল্পচর্চার একটি ইতিবাচক সংযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।