১৯৭৯ সালের ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স’ বাতিল করে নতুন ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আইনটি সরকারি গেজেটে প্রকাশ করা হয়।
গেজেটে আইনটিকে ‘২০২৬ সালের ১১০নং আইন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের পুরোনো অধ্যাদেশের পরিবর্তে নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) পরিচালনার পথ তৈরি হলো।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
নতুন আইনে এপিবিএনকে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে গঠন ও পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে। এই কাঠামোর আওতায় স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রোটেকশন ব্যাটালিয়ন, পার্বত্য ব্যাটালিয়ন, বিমানবন্দর ব্যাটালিয়ন এবং সরকার নির্ধারিত অন্যান্য বিশেষায়িত ব্যাটালিয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নতুন আইনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো, নিজস্ব অধিক্ষেত্রে ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের সরাসরি আইনি ক্ষমতা এপিবিএনকে দেওয়া হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, ফৌজদারি কার্যবিধি ও অন্যান্য প্রচলিত আইন অনুসরণ করে এপিবিএনের সদস্যরা অপরাধ সংঘটনের স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, আলামত ও মালামাল জব্দ এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে পারবেন।
এর ফলে নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এপিবিএনের আইনগত ক্ষমতার পরিধি আগের তুলনায় আরও স্পষ্ট হলো।
প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক তথ্যের সুরক্ষার বিষয়েও নতুন আইনে বিধান রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া এপিবিএনের কোনো সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম বা সংবাদপত্রে বাহিনীর কোনো তথ্য, দাপ্তরিক নথি কিংবা স্পর্শকাতর বিষয় প্রকাশ করতে পারবেন না।
এ ধরনের তথ্য প্রকাশে অন্য কাউকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সংসদে পাস হওয়া এপিবিএন বিল, ২০২৬ এখন পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হওয়ায় ১৯৭৯ সালের অধ্যাদেশের পরিবর্তে এপিবিএনের কার্যক্রম নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হবে।