আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। প্রিয় তারকার বিদায়ী মুহূর্তকে বিশেষভাবে স্মরণীয় করে রাখতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। মেসিকে সম্মান জানাতে দেশটির ঘরোয়া ফুটবলের ম্যাচে নির্দিষ্ট সময়ে এক মিনিটের জন্য খেলা থামিয়ে দেওয়া হবে।
ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এএফএর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুরুষ ও নারী—সব বিভাগ এবং পর্যায়ের আসন্ন ঘরোয়া ম্যাচে প্রথমার্ধের ১০ মিনিট পূর্ণ হলে খেলা এক মিনিটের জন্য বন্ধ থাকবে। এ সময় স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা মেসির সম্মানে করতালির মাধ্যমে তাকে শ্রদ্ধা জানাবেন।
শুধু মাঠের খেলায় নয়, ভিডিও বোর্ড থাকা স্টেডিয়ামগুলোতে ম্যাচ শুরুর আগেও মেসিকে নিয়ে একটি বিশেষ ভিডিও প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে এএফএ। মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণার পর আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ভিডিও-মন্টেজ প্রকাশ করেছিল, মূলত সেটিই শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে দেখানো হবে।
গত ৩১ আগস্ট ইনস্টাগ্রামে তিন পাতার একটি আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন মেসি। সেখানে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার সিদ্ধান্ত জানিয়ে তিনি বলেন, ফাইনালের পর অনেকটা সময় ভেবে-চিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটিই ছিল আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ আন্তর্জাতিক উপস্থিতি। ৩৯ বছর বয়সে এসে জাতীয় দলকে বিদায় জানালেও তার নাম ইতোমধ্যেই আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট প্রথমবার আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামেন মেসি। দীর্ঘ দুই দশকের পথচলায় জাতীয় দলের হয়ে করেছেন ১২৫ গোল, যা তাকে আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসিয়েছে। বিশ্বকাপেও তার রেকর্ড কম নয়। সর্বোচ্চ ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৩৪ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও তার। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৩ জয়ের রেকর্ডও মেসির দখলে।
তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন আসে ২০২২ সালে। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দিয়ে পূর্ণতা দেন নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারকে। ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্যের দীর্ঘ তালিকায় বিশ্বকাপের শিরোপাটিও যোগ হওয়ার পর মেসির ক্যারিয়ারে আর বড় কোনো অপূর্ণতা ছিল না।
অবসরের ঘোষণার চিঠিতেও ফুটে উঠেছে দীর্ঘ পথচলার আবেগ। প্রথম পাতায় নিজের সিদ্ধান্তের ভার ও জাতীয় দলের হয়ে সবটুকু দেওয়ার অনুভূতির কথা তুলে ধরেন তিনি। সেখানে নিজের নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
দ্বিতীয় পাতায় ফিরে দেখেন জাতীয় দলের হয়ে কাটানো দুই দশকের স্মৃতি। এই দীর্ঘ সময়ে পাওয়া ভালোবাসার জন্য সমর্থকদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি পরিবার, সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
চিঠির শেষ পাতায় ছিল আরও আবেগঘন বিদায়। নিজের আর্জেন্টাইন পরিচয়ের জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মেসি শেষ করেন সেই বার্তা—আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে।
মেসির বিদায় তাই শুধু একজন ফুটবলারের অবসর নয়; আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের একটি দীর্ঘ ও গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তিও। আর সেই অধ্যায়কে সম্মান জানাতেই ঘরোয়া ফুটবলের মাঠে এক মিনিট থামবে খেলা।