রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার লক্ষ্যে নিউইয়র্কের কোর্টে নেমেছিলেন নোভাক জোকোভিচ। শুরুতেই পিছিয়ে পড়লেও ঘুরে দাঁড়ানোর দারুণ আভাস দিয়েছিলেন সার্ব তারকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শারীরিক অসুস্থতার কাছে হার মানতে হলো তাকে। পাঁচ সেটের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আর্জেন্টাইন প্রতিপক্ষ মারিয়ানো নাভোনের কাছে ৬-৭, ৭-৫, ৬-৪, ২-৬, ১-৬ গেমে হেরে ইউএস ওপেনের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছেন জোকোভিচ।
ম্যাচজুড়ে জোকোভিচের শারীরিক অস্বস্তি ছিল স্পষ্ট। আর্থার অ্যাশে স্টেডিয়ামে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ছাদ বন্ধ করে দেওয়ার আগেই বারবার মাথায় আইসব্যাগ রাখতে দেখা যায় ৩৯ বছর বয়সী এই তারকাকে। নিউইয়র্কের আর্দ্র পরিবেশে বেশ অস্বস্তিতে ছিলেন তিনি। ছাদ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও কোর্টের তাপমাত্রা কমাতে এসি চালানোর অনুরোধ করেন ম্যাচ সুপারভাইজারের কাছে।
তৃতীয় সেটে জোকোভিচের অসুস্থতা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ষষ্ঠ গেমে কয়েকবার বমিও করেন তিনি। টুর্নামেন্টের ফিজিও এসে তাকে ওষুধ দেন। কোর্টসাইডে থাকা তার দলও তরল পানীয় দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। এর মধ্যেই চার ঘণ্টা পেরিয়ে যায় ম্যাচের লড়াই।
শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও লড়াই ছাড়েননি জোকোভিচ। প্রথম সেটের টাইব্রেকে হেরে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেট জিতে ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ফিরে আসেন তিনি। একসময় জয় থেকে মাত্র এক সেট দূরে ছিলেন সার্বিয়ান তারকা।
কিন্তু সেখানেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন নাভোনে। চতুর্থ সেটে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণ নেন আর্জেন্টাইন। এরপর নির্ধারণী পঞ্চম সেটেও জোকোভিচকে কোনো সুযোগ দেননি তিনি। শেষ সেটে যেন সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যান ২৪টি গ্র্যান্ড স্লামজয়ী তারকা। ৪-১ গেমে পিছিয়ে পড়ার পর আর ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি খুঁজে পাননি তিনি।
ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দেখা যায় আবেগঘন দৃশ্য। পরাজয় নিশ্চিত হওয়ার পর কোর্টেই কান্নায় ভেঙে পড়েন জোকোভিচ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গরম, পানিশূন্যতা, অসুস্থতা এবং দুর্দান্ত এক প্রতিপক্ষের সঙ্গে লড়াইয়ের পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। গ্যালারিতে বসে থাকা তার স্ত্রী জেলেনাকেও তখন বিচলিত দেখা যায়।
অন্যদিকে, জোকোভিচের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে শেষ পর্যন্ত থামিয়ে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা জয় তুলে নেন নাভোনে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে মেজর টুর্নামেন্টে জোকোভিচের টানা ৭৮টি প্রথম রাউন্ড জয়ের দৌড়ও থেমে গেল।
এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে প্রথম রাউন্ডে হেরেছিলেন জোকোভিচ। সেবার তার প্রতিপক্ষ ছিলেন পল গোল্ডস্টেইন। প্রায় দুই দশক পর আবারও কোনো গ্র্যান্ড স্লামের প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হলো টেনিস ইতিহাসের অন্যতম সফল এই তারকাকে।
জোকোভিচের ২৫তম গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের অপেক্ষাও তাই আরও দীর্ঘ হলো। আর নাভোনের জন্য এটি হয়ে রইল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় জয়গুলোর একটি।