স্মার্টফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। যোগাযোগ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন লেনদেন, ছবি তোলা কিংবা বিনোদন—প্রায় সব কাজেই নির্ভরতা বেড়েছে এই ছোট্ট ডিভাইসটির ওপর। ফলে ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে গেলে ভোগান্তিও কম নয়।
অনেকেই মনে করেন, ব্যাটারি পুরোনো হয়ে যাওয়াই চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ার একমাত্র কারণ। কিন্তু বাস্তবে ব্যবহারের কিছু অভ্যাসও ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। ফোনের চার্জ কিছুটা বেশি সময় ধরে রাখতে যেসব অভ্যাস এড়িয়ে চলা ভালো, সেগুলো জেনে নেওয়া যাক।
স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা বেশি থাকলে ব্যাটারি তুলনামূলক দ্রুত খরচ হয়। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ভিডিও দেখা, গেম খেলা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সময় অতিরিক্ত ব্রাইটনেস ফোনের চার্জে প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই পরিবেশের আলো অনুযায়ী ব্রাইটনেস সামঞ্জস্য করে রাখা ভালো। ফোনে ‘অটো-ব্রাইটনেস’ সুবিধা থাকলে সেটিও ব্যবহার করা যেতে পারে।
কোনো অ্যাপ ব্যবহার শেষে সরাসরি সামনে না থাকলেও সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে বিভিন্ন কাজ চালিয়ে যেতে পারে। নোটিফিকেশন, লোকেশন বা ডেটা ব্যবহারের কারণে এসব অ্যাপ অজান্তেই ব্যাটারি খরচ করতে পারে।
ফোনের ব্যাটারি সেটিংসে গিয়ে কোন অ্যাপ বেশি শক্তি ব্যবহার করছে তা দেখে অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিটি সীমিত করা যেতে পারে। তবে প্রয়োজনীয় মেসেজিং বা সিস্টেম অ্যাপ বন্ধ করার আগে সতর্ক থাকা জরুরি।
ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, মোবাইল ডাটা, জিপিএস কিংবা হটস্পট—প্রয়োজন না থাকলেও অনেকেই এসব ফিচার চালু রাখেন। এতে সবসময় বড় ধরনের ব্যাটারি ক্ষয় না হলেও অপ্রয়োজনীয়ভাবে সক্রিয় থাকা ফিচারগুলো মোট ব্যাটারি ব্যবহারে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকায় ফোন বারবার সিগন্যাল খুঁজলে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার হতে পারে। তাই প্রয়োজন শেষ হলে অপ্রয়োজনীয় কানেক্টিভিটি ফিচার বন্ধ রাখা ভালো।
ব্যাটারির স্বাস্থ্যের জন্য অতিরিক্ত তাপ ক্ষতিকর হতে পারে। চার্জে থাকা অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ ভারী গেম খেলা, খুব বেশি শক্তি প্রয়োজন এমন অ্যাপ চালানো কিংবা সরাসরি রোদে ফোন রেখে দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
একই সঙ্গে নিম্নমানের বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ চার্জার ও কেবল ব্যবহার না করাই নিরাপদ। ফোনের মডেলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মানসম্মত চার্জার ব্যবহার করা ভালো।
চার্জ দ্রুত শেষ হওয়ার সমস্যা নিয়মিত হলে ফোনের ‘Battery Health’ বা ব্যাটারি ব্যবহারের তথ্য পরীক্ষা করা যেতে পারে। পুরোনো ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখার সক্ষমতা সময়ের সঙ্গে কমে আসা স্বাভাবিক।
এ ছাড়া ফোনের সফটওয়্যার আপডেট রাখা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সরিয়ে ফেলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ‘Battery Saver’ বা ‘Low Power Mode’ ব্যবহার করেও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা যায়।
সবশেষে, ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়া মানেই ফোনের ব্যাটারি নষ্ট—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ব্যবহারের অভ্যাস, স্ক্রিন, অ্যাপ ও নেটওয়ার্কের ব্যবহারও এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই আগে ফোনের ব্যাটারি ব্যবহারের তথ্য দেখে সমস্যার কারণ চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অভ্যাস পরিবর্তন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।