কলম্বোর টেস্টে সেঞ্চুরি করে শুধু ব্যাট উঁচিয়ে উদযাপন করেননি ভারতের তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটার ধ্রুব জুরেল। শতরানের পর তার বাম হাতের বাইসেপসে লেখা ‘জয় জওয়ান, জয় কিষান’ বার্তাটিও নজর কেড়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনের খেলায় টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক তুলে নেন জুরেল। স্বীকৃত ব্যাটাররা একে একে ফিরে যাওয়ার পর লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। তবে ৯৯ রানে পৌঁছানোর পর কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরির জন্য তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও ১৩ বল।
শেষ পর্যন্ত আসিতা ফার্নান্দোর বলে মিড-অফের দিকে শট খেলে দৌড়ে প্রয়োজনীয় রান পূর্ণ করেন জুরেল। রান নিতে কিছুটা দেরি হওয়ায় রানআউটের শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। শেষ মুহূর্তে ডাইভ দিয়ে ক্রিজে পৌঁছে সেঞ্চুরি নিশ্চিত করেন তিনি।
মাইলফলক স্পর্শের পর মোহাম্মদ সিরাজকে জড়িয়ে ধরেন জুরেল। এরপর ব্যাট উঁচিয়ে ধরার সময় তার হাতের লেখাটিও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দিনের খেলা শেষে নিজের এই বিশেষ উদযাপনের কারণ ব্যাখ্যা করেন জুরেল। তিনি জানান, তার দাদা ছিলেন কৃষক আর বাবা ছিলেন সেনাসদস্য। জীবনের শিকড় হিসেবে তাদের স্মরণ করতেই সেঞ্চুরির পর এমন উদযাপন করেছেন তিনি।
জুরেলের ভাষায়, তার পরিবারের এই দুই পরিচয়ই তাকে গড়ে ওঠার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাই সাফল্যের মুহূর্তে বাবা ও দাদাকে স্মরণ করতে চেয়েছেন তিনি।
জুরেলের সেঞ্চুরির পেছনে বড় অবদান রয়েছে রিশভ পান্তেরও। চোটের কারণে আগের দিন মাঠ ছাড়লেও পরে আবার ব্যাট হাতে ফেরেন পান্ত। এরপর জুরেলের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে গড়ে তোলেন ১৫২ বলে ১১২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
পান্ত ৮৯ বলে ৬৩ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও দুটি ছক্কা। পান্ত ফিরে যাওয়ার পরও হাল ছাড়েননি জুরেল। লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের নিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত নিজের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন।
পান্তের সঙ্গে ব্যাটিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে জুরেল জানান, ভারতীয় ক্রিকেটে পান্তের অবদান ও অভিজ্ঞতা তাকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ দেয়।
তার মতে, কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে ব্যাটিং করতে হবে কিংবা পরিস্থিতি অনুযায়ী কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত—এসব বিষয়ে পান্তের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ তিনি কাজে লাগান।
তরুণ জুরেলের এই সেঞ্চুরি তাই শুধু স্কোরকার্ডে একটি তিন অঙ্কের ইনিংস নয়; পরিবারের শিকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা, পান্তের অভিজ্ঞতা থেকে শেখা এবং চাপের মধ্যে দায়িত্বশীল ব্যাটিং—সব মিলিয়ে কলম্বোর এই ইনিংসটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকল।