ক্রীড়া প্রতিবেদক: শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ২১০ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পরও স্বস্তিতে নেই বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার বড় ধাক্কা সামলাতে দ্বিতীয় ইনিংসেও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে টাইগাররা।
দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪ ওভার ২ বল শেষে ৬৩ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৩১ রান করে নাথান লায়নের বলে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেছেন। ক্রিজে আছেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। মুশফিকের সংগ্রহ ১৬, আর লিটন এখনো রানের খাতা খুলতে পারেননি।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের সংগ্রহের চেয়ে বাংলাদেশ এখনো ৮৩ রানে পিছিয়ে। ফলে ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে হলে বড় জুটি গড়ে রান তোলার কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একেবারেই প্রত্যাশামতো হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় মাত্র ৫ রানের মধ্যেই সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে সাজঘরে পাঠান মিচেল স্টার্ক। এরপর প্যাট কামিন্সের বলে ৯ রান করে ফেরেন তানজিদ হাসান তামিম।
২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে সাময়িকভাবে টেনে তোলেন শান্ত ও মুশফিক। দুজনের ব্যাটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে উঠলেও শেষ পর্যন্ত নাথান লায়নের বলে শান্তর বিদায়ে আবারও চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
৪৬ বলে ছয়টি চারের সাহায্যে ৩১ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তাঁর বিদায়ের পর মুশফিকের সঙ্গে জুটি বাঁধেন লিটন দাস। ইনিংস হার এড়ানোর কঠিন লড়াইয়ে এখন এই জুটির দিকেই তাকিয়ে বাংলাদেশ।
এর আগে বল হাতে বাংলাদেশের জন্য আশার আলো দেখান শরিফুল ইসলাম। তাঁর ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ২১০ রানে। ১৫ ওভারে মাত্র ৪৮ রান দিয়ে ৭ উইকেট শিকার করেন বাঁহাতি এই পেসার।
টেস্ট ক্রিকেটে কোনো বাংলাদেশি পেসারের এটাই এখন পর্যন্ত সেরা বোলিং। শরিফুলের বিধ্বংসী স্পেলের সামনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপ বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ পায়নি।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন ক্যামেরন গ্রিন। নাথান লায়নের ব্যাট থেকে আসে ৩২ রান।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৬৪ রানের বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া ২১০ রান করায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখনো অস্ট্রেলিয়ার হাতেই। ইনিংস ব্যবধানে হার এড়িয়ে ম্যাচে ফেরার জন্য বাংলাদেশের সামনে এখন একমাত্র পথ—দ্বিতীয় ইনিংসে বড় রান করা। মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের জুটিই আপাতত সেই লড়াইয়ের প্রধান ভরসা।