আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২২ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে মানচিত্রটির ছবি শেয়ার করেন তিনি।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান পার্টির এক সমাবেশে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন।
প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালির এক পাশে ইরান এবং অন্য পাশে ওমান অবস্থিত।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতেও রয়েছে হরমুজ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অভিযান শুরুর পর তেহরান হরমুজে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপ করে। এর জবাবে ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করে ওয়াশিংটন।
পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির পর হরমুজের অবরোধ প্রত্যাহার করে ইরান এবং ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রহরাও সরিয়ে নেওয়া হয়।
তবে ১৩ জুলাই ইসলামাবাদ চুক্তি থেকে সরে গিয়ে ইরান আবারও হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই পরিস্থিতি এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এর মধ্যেই গত ১২ আগস্ট মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেইস অ্যান্ড্রুজ পরিদর্শনের সময় ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান মাইন পেতেছে এবং মার্কিন নৌবাহিনী তা অপসারণের কাজ করছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হরমুজে ইরানের আর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং পুরো প্রণালি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে।
ট্রাম্পের সর্বশেষ প্রকাশিত মানচিত্রে হরমুজকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানোর বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।