তীব্র গরমের মধ্যে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেছে, অথচ দরকার এক টুকরো বরফ। ফ্রিজও চলছে না—এমন পরিস্থিতিতে কী করবেন? শুনতে অবাক লাগলেও কিছু সাধারণ উপাদান এবং একটি পুরোনো বৈজ্ঞানিক কৌশল কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ ছাড়াই পানি জমিয়ে বরফ তৈরি করা সম্ভব।
আধুনিক জীবনে খাবার সংরক্ষণ থেকে শুরু করে পানি ঠান্ডা রাখা—সবকিছুর জন্যই ফ্রিজের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কিন্তু জরুরি প্রয়োজনে ফ্রিজ ছাড়াও বরফ তৈরির একটি পদ্ধতি জানা থাকলে বিদ্যুৎবিহীন পরিস্থিতিতে তা কাজে লাগতে পারে।
এই পদ্ধতিতে খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। লাগবে—
প্রথম ধাপ: বড় পাত্রটির নিচে কয়েক ইঞ্চি পুরু করে লবণ ছড়িয়ে দিন।
দ্বিতীয় ধাপ: ছোট পাত্রটিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি ঢেলে সেটি বড় পাত্রের মাঝখানে স্থিরভাবে বসিয়ে দিন।
তৃতীয় ধাপ: ছোট পাত্রের চারপাশে লবণ ছড়িয়ে তার সঙ্গে অল্প পানি মিশিয়ে দিন। এতে ছোট পাত্রটিকে ঘিরে অত্যন্ত ঠান্ডা নোনা পানির একটি স্তর তৈরি হবে।
চতুর্থ ধাপ: পুরো সেটআপটি মোটা তোয়ালে, কাপড় বা থার্মোকল দিয়ে ভালোভাবে ঢেকে দিন। এরপর অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা ও ছায়াযুক্ত জায়গায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা রেখে দিন।
এই পদ্ধতির মূল রহস্য লবণ ও পানির মিশ্রণে।
সাধারণ পানির হিমাঙ্ক প্রায় ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু পানিতে লবণ মেশালে মিশ্রণের হিমাঙ্ক আরও নিচে নেমে যায়। ফলে লবণ-পানির মিশ্রণ আশপাশের তাপ শোষণ করে পরিবেশকে সাধারণ পানির তুলনায় অনেক বেশি ঠান্ডা করতে পারে।
এই ঠান্ডা পরিবেশের কারণে ছোট পাত্রে থাকা পানিও দ্রুত তাপ হারাতে থাকে। পর্যাপ্ত সময় ও উপযুক্ত পরিস্থিতিতে ভেতরের পানি জমে বরফে পরিণত হতে পারে।
ফ্রিজ ছাড়া বরফ তৈরির এ ধরনের কৌশল বিদ্যুৎ বিভ্রাট, জরুরি পরিস্থিতি কিংবা ক্যাম্পিংয়ের মতো জায়গায় ধারণাটি কাজে লাগাতে পারে।
তবে বরফ তৈরি হওয়ার সময় বাইরের তাপমাত্রা, পাত্রের আকার, লবণের পরিমাণ এবং ব্যবস্থাটি কতটা ভালোভাবে তাপ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে—এসব বিষয়ের ওপর ফলাফল অনেকটাই নির্ভর করবে।
অর্থাৎ, ফ্রিজ ছাড়া বরফ তৈরি কোনো জাদু নয়; লবণের কারণে হিমাঙ্ক কমে যাওয়ার বৈজ্ঞানিক নীতিকেই কাজে লাগানো হয় এই কৌশলে।