ফেসবুক, মেসেঞ্জারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম এখন ইমোজি। হাসি, কান্না, আনন্দ, দুঃখ কিংবা রাগ—মাত্র একটি ছোট প্রতীক দিয়েই অনেক সময় প্রকাশ করা যায় মনের অনুভূতি। তবে ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে সব ধরনের ইমোজি ব্যবহারের বিষয়ে একই বিধান প্রযোজ্য নয় বলে মত দিয়েছেন ফেকাহবিদরা।
বর্তমান ভার্চুয়াল যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইমোজির ব্যবহার এতটাই ব্যাপক হয়ে উঠেছে যে, অনেকের কাছে এগুলো ছাড়া কথোপকথন অসম্পূর্ণ মনে হয়। বিশ্বের বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বর্তমানে ৩ হাজার ৭৯০টিরও বেশি ইমোজি ব্যবহৃত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদানের সময় ইমোজি ব্যবহার করেন, তাদের কথোপকথন অন্যদের কাছে তুলনামূলক বেশি আন্তরিক বলে মনে হতে পারে।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, ইমোজির ব্যবহার পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতা, পছন্দ এবং সম্পর্কের সন্তুষ্টির অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অর্থাৎ, ডিজিটাল যোগাযোগে একটি ছোট ইমোজিও অনেক সময় কথার আবেগ ও আন্তরিকতা প্রকাশে ভূমিকা রাখে।
ইমোজির মধ্যে রয়েছে হাসিমুখ, মানুষের মুখাবয়ব, বিভিন্ন প্রাণী, ফুল, ফল এবং অসংখ্য প্রতীক।
ফেকাহবিদদের একটি মত অনুযায়ী, মানুষ বা প্রাণীর সুস্পষ্ট অবয়ব বোঝা যায়—এমন ছবিযুক্ত ইমোজি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। তাদের মতে, জীবন্ত প্রাণীর আকৃতি বা মুখাবয়বের সাদৃশ্য রয়েছে এমন ইমোজির ব্যবহার জায়েজ নয়।
তবে যেসব প্রতীকে মানুষের মুখ বা প্রাণীর স্পষ্ট অবয়ব নেই, সেগুলো নিষিদ্ধ ছবির আওতায় পড়ে না বলে মত দেওয়া হয়েছে। যেমন—চোখ, নাক, মুখ, মাথা বা কানসহ কোনো জীবন্ত প্রাণীর চেহারা প্রকাশ করে না এমন প্রতীককে এ ক্ষেত্রে আলাদাভাবে দেখা হয়।
ইসলামি ফিকহের আলোচনায় জীবন্ত প্রাণীর আকৃতির সঙ্গে সাদৃশ্য নেই—এমন বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণত আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করা হয়।
ফুল, ফল, গাছ, খেলাধুলার সরঞ্জাম, ব্যাট, বলসহ বিভিন্ন জড়বস্তু বা প্রাণহীন প্রতীকের ইমোজি এ ধরনের উদাহরণ হতে পারে।
অন্যদিকে মানুষ বা জীবজন্তুর চেহারা কিংবা সুস্পষ্ট আকৃতি প্রকাশ করে—এমন ইমোজির বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আলেম ও ফেকাহবিদরা।
এ বিষয়ে হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় প্রাণীর ছবি তৈরির ব্যাপারে সতর্কবার্তার কথা উল্লেখ রয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ছবি নির্মাণের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এ বিষয়ে সহিহ বুখারিতে হাদিস বর্ণিত রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমোজির ব্যবহার দিন দিন বাড়লেও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন ইসলামি চিন্তাবিদরা।
তাদের মতে, অনুভূতি প্রকাশের জন্য এমন প্রতীক ব্যবহার করা যেতে পারে, যাতে মানুষ বা জীবজন্তুর সুস্পষ্ট আকৃতি বা চেহারার সাদৃশ্য নেই।
ফুল, ফল, গাছ, ব্যাট, বলসহ প্রাণহীন বস্তুর প্রতীক ব্যবহারে আপত্তি নেই বলে ফেকাহবিদদের মত থাকলেও মানুষ ও প্রাণীর সুস্পষ্ট আকৃতির ইমোজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইসলামি বিধান সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।