ধর্ম ডেস্ক:
আল্লাহ তায়ালার রহমত ও সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম সহজ মাধ্যম হলো বেশি বেশি জিকির ও দোয়া করা। মানুষের মুখে উচ্চারিত ছোট্ট একটি জিকিরও যদি আন্তরিকতা ও একনিষ্ঠতার সঙ্গে করা হয়, তা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় হতে পারে। এমনই একটি জিকিরের ফজিলতের কথা উঠে এসেছে সহিহ হাদিসে।
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে সাহাবিরা নামাজ আদায় করছিলেন। নামাজের মধ্যে এক সাহাবি উচ্চারণ করেন—
اللَّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ كَثِيرًا، وَسُبْحَانَ اللَّهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا
উচ্চারণ:
আল্লাহু আকবারু কাবিরা, ওয়ালহামদু লিল্লাহি কাছিরা, ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসিলা।
অর্থ:
‘আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ, মহান। আল্লাহর জন্য অগণিত প্রশংসা। সকাল ও সন্ধ্যায় আমি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করছি।’
নামাজ শেষ হওয়ার পর মহানবী (সা.) জানতে চাইলেন, কে এই কথাগুলো বলেছেন। ওই সাহাবি নিজের পরিচয় দিলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে সুসংবাদ দেন। তিনি জানান, ওই জিকিরের কারণে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।
হাদিসটির শিক্ষা হলো, আল্লাহর মহিমা ঘোষণা, তাঁর প্রশংসা এবং পবিত্রতা বর্ণনা করা অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল। তাই ইবাদত মানেই শুধু দীর্ঘ বা কঠিন কোনো আমল নয়; অল্প কথার জিকিরও আন্তরিকতার সঙ্গে আদায় করলে তা আল্লাহর কাছে কবুল ও প্রিয় হতে পারে।
নিয়মিত জিকির মানুষের অন্তরকে আল্লাহর স্মরণে জীবন্ত রাখে এবং বান্দাকে তাঁর রহমত ও সন্তুষ্টির দিকে এগিয়ে দেয়। তাই প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহর প্রশংসা ও পবিত্রতা ঘোষণায় সময় দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে বেশি বেশি জিকির ও দোয়া করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
হাদিসের সূত্র: সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬০১; সুনানে নাসায়ি, হাদিস নং ৮৮৬।