ধর্ম ডেস্ক:
দিনের ব্যস্ততার পাশাপাশি রাতের একটি অংশ আল্লাহর ইবাদতে ব্যয় করা মুমিনের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে রাতের ইবাদত, জিকির এবং কোরআন তিলাওয়াতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘এবং রাতের একাংশেও তুমি তাঁর তাসবিহ পাঠ কোরো এবং নামাজের পরও।’ অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘রাতের একাংশে তাঁর উদ্দেশে সিজদা কোরো এবং দীর্ঘ রাত ধরে তাঁর তাসবিহ পাঠ কোরো।’ —সুরা ক্বফ ও সুরা দাহর।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও রাতের ইবাদতে যত্নবান হতে উৎসাহ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে, রাতের ইবাদত পূর্ববর্তী নেককার বান্দাদের অন্যতম আমল। এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম এবং মানুষের আত্মশুদ্ধিতেও ভূমিকা রাখে।
রাতের ইবাদত শুধু নফল নামাজ বা জিকিরেই সীমাবদ্ধ নয়। এ সময় কোরআন তিলাওয়াতেরও রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। সুরা মুজ্জাম্মিলে মহান আল্লাহ রাতের কিছু অংশে দাঁড়িয়ে ধীরে ও স্পষ্টভাবে কোরআন পাঠের নির্দেশ দিয়েছেন।
হাদিসে কিয়ামতের দিন কোরআনের সুপারিশের কথাও এসেছে। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, রোজা ও কোরআন কিয়ামতের দিন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। কোরআন বলবে, সে রাতের ঘুম ছেড়ে তিলাওয়াতে সময় ব্যয় করেছিল।
হাদিসে রাতের কোরআন তিলাওয়াতের ফজিলতের কথাও বর্ণিত হয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিস অনুযায়ী, রাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ কোরআনের আয়াত তিলাওয়াতকারীদের উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে না।
কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা ব্যক্তিদের মর্যাদা সম্পর্কেও বিভিন্ন হাদিসে আলোচনা এসেছে। সহিহ বুখারির একটি বর্ণনায় এমন ব্যক্তির প্রতি অনুপ্রেরণামূলক ঈর্ষার কথা বলা হয়েছে, যাকে আল্লাহ কোরআনের জ্ঞান দিয়েছেন এবং তিনি দিন-রাত তা তিলাওয়াত করেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগেও সাহাবায়ে কেরাম রাতের নীরবতায় কোরআন তিলাওয়াত করতেন। একটি বর্ণনায় আশআরি সাহাবিদের রাতের তিলাওয়াতের সুমধুর আওয়াজের কথা উল্লেখ রয়েছে, যা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের অবস্থান চিনতে পারতেন।
খলিফা উসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর কোরআনপ্রেম ও ইবাদতের কথাও ইসলামী ইতিহাসে বিশেষভাবে আলোচিত। তিনি দীর্ঘ সময় কোরআন তিলাওয়াত ও ইবাদতে কাটাতেন বলে বিভিন্ন বর্ণনায় পাওয়া যায়।
রাতের কিছু সময় মোবাইল, বিনোদন কিংবা অন্যান্য ব্যস্ততা থেকে দূরে রেখে কোরআন তিলাওয়াত, নামাজ ও আল্লাহর স্মরণে ব্যয় করা একজন মুমিনের আত্মিক প্রশান্তি ও ইবাদতের প্রতি মনোযোগ বাড়াতে পারে।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে কোরআনের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার এবং রাতের সময়কে ইবাদত ও নেক আমলে কাজে লাগানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।