লাইফস্টাইল ডেস্ক:
ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা ও অনিয়মিত জীবনযাপনের কারণে অনেকেরই রাতে শান্তিতে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে। ভালো ঘুমের জন্য সব সময় ওষুধের ওপর নির্ভর করতে হবে এমন নয়। দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কিছু পরিবর্তনও ঘুমের মান ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে। এমন একটি খাবার হলো মিষ্টি আলু।
পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খাবারটি রাতে পরিমিত পরিমাণে খেলে শরীরকে আরাম দিতে এবং ঘুমের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
মিষ্টি আলুতে রয়েছে জটিল কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন বি৬, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো পুষ্টি উপাদান। এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে এবং স্নায়ুতন্ত্রকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে।
ম্যাগনেসিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যকারিতার সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, কার্বোহাইড্রেট শরীরে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে, যা ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত নিউরোট্রান্সমিটারের কার্যক্রমকে সহায়তা করতে পারে।
রাতের ঘুমের আগে খেতে চাইলে ঘুমাতে যাওয়ার এক থেকে দুই ঘণ্টা আগে পরিমিত পরিমাণে মিষ্টি আলু খাওয়া যেতে পারে। তবে এটি কোনো নিশ্চিত ঘুমের ওষুধ নয়; সবার শরীরে একইভাবে কাজ নাও করতে পারে।
যাদের রাতে ভারী খাবার খেলে অস্বস্তি, অ্যাসিডিটি বা হজমের সমস্যা হয়, তাদের নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে খাবার নির্বাচন করা উচিত।
মিষ্টি আলু ভাজা বা অতিরিক্ত চিনি-মাখন দিয়ে না খেয়ে—
খাওয়া যেতে পারে।
এর সঙ্গে টক দই, কয়েকটি বাদাম বা অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার যোগ করা যেতে পারে।
পরিমিত পরিমাণে মিষ্টি আলু খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। সাধারণভাবে আধা থেকে একটি মাঝারি আকারের মিষ্টি আলু একজনের জন্য যথেষ্ট হতে পারে, তবে বয়স, শারীরিক চাহিদা ও খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা থাকলে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় মিষ্টি আলু যোগ করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
মনে রাখবেন, ভালো ঘুমের জন্য শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত শারীরিক কার্যক্রম এবং ঘুমের আগে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার কমানোর দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।