নিজস্ব প্রতিবেদক, রাঙামাটি:
দীর্ঘ বিরতির পর মাছ আহরণ শুরুর পর রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে দেখা দিয়েছে মাছের প্রাচুর্য। মৌসুমের শুরুতেই জেলেদের জালে উঠছে বিপুল পরিমাণ মাছ। আহরণের প্রথম দুই দিনেই প্রায় ৩১০ মেট্রিক টন মাছ অবতরণ হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই সময়ে সরকারি রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে রাঙামাটি বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের সুযোগ দিতে টানা তিন মাস ১৬ দিন কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষে গত সোমবার (১১ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে আবার মাছ আহরণ শুরু করেন জেলেরা।
নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার ও বুধবার—প্রথম দুই দিনেই জেলেরা দিন-রাত পরিশ্রম করে হ্রদ থেকে প্রায় ৩১০ মেট্রিক টন মাছ আহরণ করেন। বিপুল এই আহরণ থেকে বিএফডিসির রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা। সংশ্লিষ্টদের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ আয় প্রায় দ্বিগুণ।
কাপ্তাই হ্রদে দেশীয় ও বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৪৫ ধরনের মাছ পাওয়া যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, কালিবাউস, বোয়াল, পাবদা, টেংরা, গ্রাসকার্প, তেলাপিয়া, শিং, চাপিলা, গজার, বাইম, শোল, টাকি, কৈ, আইড়, বাতাসি ও বাইল্লাসহ বিভিন্ন প্রজাতি।
দেশের অন্যতম বড় মিঠাপানির মাছের উৎস হিসেবে পরিচিত কাপ্তাই হ্রদের মাছ রাঙামাটি ছাড়িয়ে চট্টগ্রাম, ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে সরবরাহ করা হয়।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদ দেশের মৎস্যসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার। এই হ্রদের মাছ আহরণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে রাঙামাটি অঞ্চলের ২৬ হাজার ৮৪৫টি মৎস্যজীবী পরিবার।
মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে হ্রদে বিপুল পরিমাণ পোনা অবমুক্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে মাছের প্রজননেরও সুযোগ তৈরি হয়। দীর্ঘ বন্ধকাল শেষে এসব পোনা বড় হয়ে ওঠায় এবার আহরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কাপ্তাই হ্রদে মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে রয়েছে সাতটি অভয়াশ্রম। মাছ বাজারজাতকরণ ও অবতরণের জন্য বিএফডিসির অধীনে রয়েছে চারটি কেন্দ্র। এগুলোর মধ্যে রাঙামাটির মারিশ্যায় একটি, রাঙামাটি সদরে একটি, কাপ্তাই উপজেলায় একটি এবং খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে একটি অবতরণ কেন্দ্র রয়েছে।
রাঙামাটি ফিসারিতে বর্তমানে নিবন্ধিত মাছ ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৭৭ জন। আর বিএফডিসিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন ৭৬ জন।
রাঙামাটি মৎস্য উন্নয়ন অধিদপ্তরের উন্নয়ন ও বিপণন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, হ্রদে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এবার শুরুতেই ভালো আহরণ সম্ভব হয়েছে। এ ফলাফল ধরে রাখতে বিএফডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
এদিকে মাছ অবতরণের ক্ষেত্রেও সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৭টার পর রাঙামাটি ফিসারিঘাটে মাছ অবতরণ করা যাবে না।
কাপ্তাই হ্রদে মাছের এই প্রাচুর্যে একদিকে যেমন মৎস্যজীবীদের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মিঠাপানির মাছের সরবরাহও স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এ হ্রদ।